সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আধিপত্য বিস্তারের জেরে রাজধানীর দক্ষিণখান থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ একটি কিশোর গ্যাং চক্রের ৭ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৫ জন চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাং সদস্য এবং ২ জন মাদক ব্যবসায়ী।
সম্প্রতি ডিএমপির বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও মাদক সেবন বেড়ে যায়। এর মধ্যে দক্ষিণখান এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুটি গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একটি সংঘর্ষের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি ডিএমপির উত্তরা বিভাগের নজরে এলে এডিসি (দক্ষিণখান জোন) এর তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় এবং দক্ষিণখান থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে গত ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে এলাকায় একটি সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও ১৬৩ (একশত তেষট্টি) পিস ইয়াবাসহ চক্রটির সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ৫ চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাং সদস্য:
মোঃ হাসান (২১): পিতা-মৃত এরশাদ আলী, দক্ষিণখান থানার মুক্তিযোদ্ধা রোড, মুন্সী মার্কেট এলাকার ভাড়াটিয়া।
মোঃ সায়েম (১৯): পিতা-আব্দুর রাজ্জাক, দক্ষিণখানের মোল্লারটেক এলাকার বাসিন্দা।
মোকলেছুর রহমান (২৫): পিতা-মোঃ লেবু মিয়া, দক্ষিণখানের মুন্সী মার্কেট এলাকার ভাড়াটিয়া (স্থায়ী ঠিকানা: জামালপুর)।
মোঃ রাহিম সিকদার (২২): পিতা-মৃত মকবুল হোসেন, দক্ষিণখানের শ্রীপাড়া আমতলা এলাকার ভাড়াটিয়া (স্থায়ী ঠিকানা: শরীয়তপুর)।
গোলাম রহমান (৩০): পিতা-মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, দক্ষিণখানের আমতলা এলাকার বাসিন্দা (স্থায়ী ঠিকানা: বরিশাল সদর)।
গ্রেফতারকৃত ২ মাদক ব্যবসায়ী:
মেহরাজ হাসান অন্তর (২০): পিতা-মোঃ সায়েম ভূঁইয়া, দক্ষিণখানের মুন্সী মার্কেট, উদয়ন স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা (স্থায়ী ঠিকানা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর)।
শাকিল আহম্মেদ হৃদয় (২৫): পিতা-মৃত শাহাব উদ্দিন, দক্ষিণখানের মুন্সী মার্কেট, উদয়ন স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা।
ডিএমপির উত্তরা বিভাগ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মূলে তারা ২৪/৭ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই সফল অভিযানের মাধ্যমে দক্ষিণখান থানা পুলিশ তাদের পেশাদারিত্বের প্রমাণ দিয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।