ঢাকার কেরানীগঞ্জে অটোরিকশাচালক জুয়েলকে শ্বাসরোধে হত্যার পর যানটি ছিনতাইয়ের মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের ছিনতাইয়ের অভিযোগে আরো পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ মুনির হোসাঈন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন আলী হোসেন, লুৎফর রহমান ও হাসান। এ ছাড়া ছিনতাই করা অটোরিকশা জেনেও কম দামে কেনার অপরাধে গ্যারেজ মালিক আহমদুর রহমানকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আদালতের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ সহকারী রিয়াজুল ইসলাম সজিব সাজার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও বিচারক প্রত্যেক আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন, যা অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। জরিমানা আদায় সাপেক্ষে ১৫ লাখ টাকা নিহতের পরিবার ও এতিম সন্তানদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রিয়াজুল ইসলাম আরো জানান, ছিনতাইয়ের দায়ে তিন আসামিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে গ্যারেজ মালিক আহমদুরকে তিন বছরের কারাদণ্ড ছাড়াও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আজ রায় ঘোষণার আগে কারাগারে থাকা আসামি আলী হোসেন, লুৎফর রহমান ও হাসানকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় পড়া শেষে সাজা পরোয়ানাসহ তাদের আবারও কারাগারে পাঠানো হয়। সাজাপ্রাপ্ত গ্যারেজ মালিক আহমদুর রহমান পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৫ অক্টোবর বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে গ্যারেজ থেকে বের হন জুয়েল। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে আসামি আলী ও লুৎফর যাত্রীবেশে রুহিতপুর বাজার থেকে জুয়েলের অটোরিকশা ভাড়া নেন।
তারা তাকে ভাষানচর কাঠবাগানের দিকে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা হাসান ও এনামুল নামের এক কিশোর তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। চারজন মিলে জুয়েলের হাত-পা ও মুখ চেপে ধরে ধইঞ্চা ক্ষেতে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে তার কাছে থাকা মোবাইল, নগদ টাকা ও অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
পরদিন ধইঞ্চা ক্ষেত থেকে জুয়েলের মরদেহ উদ্ধার করা হলে তার বোন সাবিনা কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক মাহমুদ আলম চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র এবং কিশোর এনামুলের বিরুদ্ধে দোষীপত্র দাখিল করেন। ২০২২ সালের ২৮ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় আদালত ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামিপক্ষে একজন সাফাই সাক্ষ্য দেন। যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আজ এ রায়ের দিন ধার্য ছিল।