সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৫২ অপরাহ্ন

রংপুরে ৪ হত্যা : আসামির পরা শার্ট নিয়ে নানা প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

রংপুরে চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত এক আসামির পরিহিত শার্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনদের তুমুল আলোচনা চলছে। একই ধরনের আরেকটি শার্ট মরদেহ উদ্ধারের দিন পুলিশের এক কর্মকর্তার গায়ে দেখা গিয়েছিল।

মূলত এ নিয়েই চলছে আলোচনা।
শনিবার (২২ আগস্ট) রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সন্দেহভাজন হিসেবে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

তাদের বাড়িও মাছুয়াপাড়ায়। হত্যাকাণ্ডের পর ভবনটিতে বসে তারা ইয়াবা সেবন করেন।
জানা গেছে, এ রকম একটি শার্ট মরদেহ উদ্ধারের দিন রংপুর মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তার গায়েও দেখা গেছে। রংপুরভিত্তিক বিভিন্ন স্থানীয় ফেসবুক পেজের লাইভে এক ব্যক্তিকে এই শার্ট পরে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে দেখা যায়।

তার মুখে মাস্ক ছিল। তিনিই মূলত ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
তবে এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, একই শার্ট আলাদা আলাদা লোক পরতেই পারে।

পুলিশ জানায়, আটক দুজনের মধ্যে একজন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকান। পরে তুতবাগানের পাশে দখীগঞ্জ শ্মশান থেকে তাকে আটক করা হয়।

শনিবার (২২ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার পাশেই সীমান্ত নামের একজনের বাসায় বসে ইয়াবা সেবন করেন। পরে রাতের শেষ দিকে তারা দেবু নামের এক ব্যক্তির নির্মীয়মাণ ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন।

তিনি বলেন, ‘এত অল্প সময়ে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে মামলার যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, আমি আলহামদুলিল্লাহ বলব। আমি আপনাদের বলব পুলিশের ভালো কাজগুলোর প্রশংসা করবেন এবং নেগেটিভ কাজের সমালোচনা করবেন। শেষে কথাটা বলব, আমার ওপর আস্থা রাখতে পারেন।’

রবিবার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি জানান, গ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। নিজেদের দায় স্বীকার করায় তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102