ক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নৌকায় নিয়ে হাত-পা বেঁধে গৃহবধূকে ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগে মামলা হয়েছে। বুধবার ওই নারী থানায় মামলাটি করেন।
দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের মেঘনার চর বায়রাঘাট এলাকার এ ঘটনায় নৌকার মাঝি আবদুর রহমান ওরফে রহমত আলীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং তার ভাই মো. মহিমের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চরঘাসিয়া গ্রামের মিঝি বাড়ির ইসমাইল মিঝির ছেলে।
বুধবার ওই নারী অভিযোগ করেন, মেঘনার চরে সয়াবিন আনা-নেওয়ার সময় রহমত আলীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে কথাবার্তা শুরু হয়। গত সোমবার বিয়ের কথা বলে দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের বায়রাঘাট এলাকায় মেঘনা নদীর মাঝে নিয়ে নৌকায় হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করেন তিনি। এ সময় তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে রহমত আলীকে আটক করে স্থানীয় ইউপি সদস্য হানিফ দেওয়ানের বাড়িতে নিয়ে যান। এ সময় বিয়ের কথা বললে তাকে পিটিয়ে আহত করেন রহমত ও তার ভাই মো. মহিম। পরে তাকে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ওই গৃহবধূ জানান, পাঁচ বছর আগে মুন্সীগঞ্জের এক ছেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সেই সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তবে তিন বছর আগে তার সেই স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেন। পরে তাদের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ না হলেও যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে ওই নারী রহমত ও তার ভাই মহিমকে আসামি করে থানায় ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগে মামলা করেন। ওইদিন বিকালে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়েছে। এ ছাড়া তিনি লক্ষ্মীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারকের কাছে জবাববন্দি দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে রহমত আলী ও মো. মহিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া মোবাইল ফোনে কল করলেও ইউপি সদস্য হানিফ দেওয়ান তা রিসিভ করেননি। ঘটনাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, বিয়ের প্রলোভনে চরে ঘুরতে নিয়ে নৌকায় ধর্ষণ করার অভিযোগে চরবংশীর এক নারী মামলা করেছেন। অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।