ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নে ব্যবসায়ীদের হয়রানি এবং অবৈধ অর্থ লেনদেনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নে ব্যবসায়ীদের হয়রানি এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগে ডিএসসিসির রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা মোস্তফা নূরউদ্দিন আহম্মেদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে কেন প্রচলিত আইনে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানিয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
অব্যাহতিপ্রাপ্ত মোস্তফা নূরউদ্দিন আহম্মেদ ডিএসসিসির রাজস্ব বিভাগের বিবিধ আদায় শাখা, অঞ্চল-৪-এর লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গতকাল রবিবার (১৬ আগস্ট) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, আইন-শৃঙ্খলা, যানজট নিরসন এবং ট্রেড লাইসেন্স সেবার মান বৃদ্ধি নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
সভায় ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, রাজস্ব বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ডিসিসিআই ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী ভুট্টো সরাসরি অভিযোগ উত্থাপন করেন যে গত ২৩ ও ২৪ জুন অনস্পট ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ক্যাম্প চলাকালে ওই লাইসেন্স সুপারভাইজার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২২টি ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করেন। তবে দেড় মাসেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও লাইসেন্সগুলো নবায়ন করে দেননি এবং পরবর্তী সময়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি টালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করেন।
ব্যবসায়ী নেতার অভিযোগ শোনামাত্রই ডিএসসিসির প্রশাসক তাৎক্ষণিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় প্রশাসকের নির্দেশক্রমে মোস্তফা নূরউদ্দিন আহম্মেদকে অনতিবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
নাগরিক ও ব্যবসায়ী সেবায় যেকোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির বিষয়ে ডিএসসিসি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে উল্লেখ করে সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জনাব জোনায়েদ কবীর সোহাগ জানান, শোকজের লিখিত জবাব পাওয়ার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।