শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ন

রাবিতে আম্মারের নেতৃত্বে ‘বাকশাল’ নামে গরু জবাই

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে ‘বাকশাল’ নাম দিয়ে একটি গরু জবাই করে ‘জুলাই জিয়াফতের’ আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই আয়োজন উপলক্ষে গুগল ফর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের থেকে আবেদন নেওয়া হয়। প্রায় ৭৫০ শিক্ষার্থী এই আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। আয়োজনটি রাকসুর ব্যানারে করা হলেও একাধিক রাকসু প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না। এদিকে আয়োজনের নেতৃত্বে থাকা সালাহউদ্দিন আম্মার দাবি করেছেন, আয়োজনের সঙ্গে রাকসুর সম্পৃক্ততা নেই।

আয়োজনের বিষয়ে রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর বলেন, ‘আজকের গরুভোজে রাকসুর পক্ষ থেকে কোরবানি হচ্ছে কি না—আমি তা জানি না। এতটুকু আমি স্পষ্ট করি, এই আয়োজনের সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। রাকসুর ব্যানারে কারা আয়োজন করছে—সে বিষয়ে তারা এখনো স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবুও রাকসুর যারা এই আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত, তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিবৃতি আকারে কোরবানির বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে।’

শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ বলেন, ‘এখানে মাঠও আমাদের, প্লেয়ারও আমাদের, রেফারিও আমাদের। তাই শিক্ষার্থীদের টাকা দিয়ে আমরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করি। এখানে প্রশ্ন করার কেউ নাই তো! এটি কি রাকসুর টাকা? আর যদি রাকসুর টাকা না হয়, তাহলে কি জাকাতের টাকা নাকি?’

এর আগে গতকাল রাতে এক ভিডিও বার্তায় ভোজের ঘোষণা দিয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে বলেন, ‘১৫ আগস্ট আপনাদের সবাইকে নিয়ে আমাদের যে প্রাণপ্রিয় গরুটা আনতে পারছি, তার নাম দেওয়া হয়েছে বাকশাল। এই বাকশালটাকে আমরা কোরবানি করে আমরা উদযাপন করব। এটাকে জুলাই জিয়াফতও বলতে পারেন, জুলাইয়ের আপ্যায়ন।’

এ ছাড়া সালাহউদ্দিন আম্মার তার পেজে মধ্যরাতে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘১৫ আগস্ট রাতেই বাকশালরে শুয়াইয়া দিলাম। আমি মেজর সালাহউদ্দিন আম্মার বলছি।’

 

সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে অপেক্ষা করছেন। রাকসু ভবনের ভেতরে খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বসার জন্য কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে ঘাসের ওপর কিছু ত্রিপল বিছানো হচ্ছে। জোহরের নামাজ শেষে পৌনে ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করেন। দুপুর ২টা ১০ মিনিটে রাকসু ভবন থেকে ভ্যানে করে খাবার আনতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আজ বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি। সে জন্য গরুর নাম বাকশাল রাখা হয়েছে। শুরুতে রাকসুর পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হয়েছিল। তবে রাকসুর সব সদস্য এতে একমত হয়নি। পরে আমাদের এক ভাই এটি উপহার দিয়েছেন। এখানে রাকসু জড়িত নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102