শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’-এর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া প্রশাসনিক অঞ্চল। ঝড়ের তীব্রতার প্রভাবে পাঁচজন আহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে প্রায় ১৪ হাজার ভবন।
অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড়টি চীন উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কায় পূর্ব উপকূলে বন্দর ও ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ওকিনাওয়া ও কাগোশিমা প্রশাসনিক অঞ্চলের আমামি দ্বীপে এই ঝড়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এরমধ্যে টাইফুনের আঘাতে ওকিনাওয়ায় অন্তত পাঁচজন প্রবীণ নাগরিক আহত হয়েছেন, যার মধ্যে তিনজন প্রবল বাতাসের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে আঘাত পান। নিরাপত্তাজনিত কারণে অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (এএনএ) ও জাপান এয়ারলাইনস আঞ্চলিক সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।
উপকূলে আঘাত করার সময় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়াসহ ঘণ্টায় ২১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।
চীন জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে দেশের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে, বিশেষ করে চচিয়াং প্রদেশের চৌশান শহর এবং ফুচিয়েন প্রদেশের ফুদিং শহরের মাঝামাঝি এলাকায় টাইফুন ‘ডলফিন’ আছড়ে পড়তে পারে। প্রলয়ঙ্কারী এই ঝড়ের প্রভাবে চচিয়াং প্রদেশের কিছু এলাকায় ৬০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
ঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে চচিয়াং প্রদেশ কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় সতর্কতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে, বন্ধ করে দিয়েছে বন্দর কার্যক্রম এবং ১৬২টি যাত্রীবাহী ফেরি চলাচল স্থগিত করেছে।
এছাড়া নিংবো লিশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রবিবার থেকে সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে টাইফুনের প্রভাব পড়েছে তাইওয়ানেও। বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশটিতে অন্তত ৬৩টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। এর মধ্যেই তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে চীনা ট্রাফিক কন্ট্রোল নির্দেশ মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে বেইজিং। চীনের এই পদক্ষেপকে ‘হাস্যকর’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তাইপেই।
তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় অন্য দেশের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কোনো অধিকার বেইজিংয়ের নেই।