বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে টেকসই ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা জোরদারে ‘ইমপ্রুভিং ট্র্যান্সপারেন্সি ফর সাসটেইনেবল বিজনেস’ (আইটিএসবি) উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই) এর মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
২০২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় এই চুক্তি বিজিএমইএ ও জিআরআই এর দীর্ঘদিনের আইটিএসবি উদ্যোগকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিলো। কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিজিএমইএ পোশাক খাতে স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল ব্যবসা পরিচালনার নেতৃত্ব দেবে। এই অংশীদারিত্ব ‘জিআরআই স্ট্যান্ডার্ডস’ ব্যবহার করে ব্যবসার পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবগুলো চিহ্নিত ও প্রকাশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াবে।
আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে যুক্ত এ খাতের জন্য বিশ্বস্ত সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখবে।
আইটিএসবি উদ্যোগটি ছোট, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ সব অংশীদারদের নিয়ে গঠিত একটি সক্ষমতা বৃদ্ধির প্ল্যাটফর্ম। এর অধীনে প্রশিক্ষণ, ওয়েবিনার, কর্মশালা ও সংলাপ আয়োজন করা হবে। এছাড়াও, দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জিআরআই এর বৈশ্বিক মানদন্ড নির্ধারণী পরিষদের কাছে পোশাক খাতের বাস্তব চিত্র ও পরামর্শ তুলে ধরার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশে এ উদ্যোগের ট্রেইনিং অ্যান্ড আউটরিচ পার্টনার হিসেবে কাজ করছে “দ্য সাসটেইনেবিলিটি নেক্সাস” (সাসনেক্স)।
ইতোমধ্যেই ২০২৬ সালের মে এবং জুলাই মাসে আয়োজিত কর্মসূচিগুলোতে এ উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, যেখানে প্রায় ৩০০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। মে মাসের ‘মাস্টারক্লাসে’ পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয়। এরপর জুলাইয়ের গোলটেবিল বৈঠক ও ‘মাস্টারক্লাস-২’-এ অর্থনৈতিক প্রভাব, রেগুলেটরি লিংক এবং বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিকোণ থেকে রিপোর্টের মান মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।
এই অংশীদারিত্ব প্রসঙ্গে জিআরআই এর চিফ অব স্ট্যান্ডার্ডস, বাস্তিয়ান বাক বলেন:
“বিজিএমইএ-র সাথে এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশে পোশাক খাতের স্বচ্ছতা ও ইমপ্যাক্ট-ভিত্তিক রিপোর্টিং জোরদার করার একটি বড় পদক্ষেপ। আইটিএসবি উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা ব্যবসায়ী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অংশীদারদের সাথে সরাসরি কাজ করে জিআরআই মানদণ্ডের ব্যবহারিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আগ্রহী। এর ফলে দেশীয় পোশাক খাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পৌঁছাবে এবং বিশ্ববাজারে এই খাতের জবাবদিহিতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।”
বিজিএমইএ এর রেসপন্সিবল বিজনেস হাব এবং সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াসিম জাকারিয়া বলেন:
“বাংলাদেশের পোশাক শিল্প পরিবেশগত স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল উৎপাদনে ইতোমধ্যে বৈশ্বিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য হলো, এ সাফল্যকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সঠিকভাবে পরিমাপ ও প্রকাশ করা। জিআরআই-এর সাথে এই যৌথ উদ্যোগ কারখানাগুলোকে আধুনিক সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিংয়ে দক্ষ করে তুলবে। এই স্বচ্ছতা কেবল ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাই বাড়াবে না, বরং নিজস্ব ঝুঁকি ও নতুন সম্ভাবনা চিহ্নিত করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।”
আশা করা যাচ্ছে যে, জিআরআই এর বৈশ্বিক দক্ষতা, বিজিএমইএ এর নেতৃত্ব এবং সাসনেক্স এর সহযোগিতায় এই যৌথ প্রয়াস একটি স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী তৈরি পোশাক খাত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।