সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:

ডিসেম্বরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন শেখ হাসিনা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য তিনি আগামী ডিসেম্বরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরতে চান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নিজে এসব কথা বলেছেন। তবে সুনির্দিষ্ট তারিখ এবং কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন তা জানাননি।  

টেলিফোনে সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয় বৃহস্পতিবার রাতে। রয়টার্স এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে শুক্রবার। শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশে ফেরার পর তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবু আমাকে যেতেই হবে। আমার দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। মৃত্যু যদি আসেই, তবে আমি চাই তা যেন নিজের মাটিতেই হয়।’

শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের জন্য বাংলাদেশ কয়েক দফায় ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। রয়টার্স লিখেছে, দুই বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে বর্তমান সরকার যখন স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, তখন শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে রাজনৈতিক বিভাজন আরও তীব্র হতে পারে।

আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালেরও মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। দলটির অন্য নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি রয়টার্স। শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, তবে সাড়া পায়নি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। গত এপ্রিলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা হাসিনাকে হস্তান্তরের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধ খতিয়ে দেখছে। নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত হতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে চায় দিল্লি।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই বছর আগে গণআন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকারের চালানো সহিংসতায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন। বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা বলছেন, ‘আমাদের প্রায় সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। তাদের অনেকেই আত্মগোপনে আছেন। তাই বলেছি, এবার আমি দেশে ফিরছি এবং একদিন আপনাদের সবারই ফিরে আসা উচিত। আমরা একসঙ্গে আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করব।’

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে ফেরার কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ এবং কবে কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন তা জানাননি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমি বিচারে বিশ্বাস করি। আমার মনে হয় একবার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে আদালতের এই প্রহসন জনগণের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমি সেটাই প্রমাণ করতে চাই।

শেখ হাসিনা জানান, দেশে ফেরার পরিকল্পনার বিষয়ে ঢাকার বর্তমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ হয়নি। তিনি বলেন, ‘একটি সরকার যখন দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে, তখন কিছু ভুলত্রুটি হতেই পারে। কোনো সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। একটি সরকারের ভালো-মন্দ বিচার করার অধিকার কেবল জনগণের। আমি সেই বিচার জনগণের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি।’

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, তারা হয়তো আমাকে দণ্ডিত করতে পারে, আমি হয়তো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারব না। কিন্তু তারা কেন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করবে? আমরা যদি খারাপ কিছু করে থাকি, তবে সেটি জনগণকেই নির্ধারণ করতে দেওয়া হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102