উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাতে পৌরসভাসহ জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো।
গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে মোংলা আবহাওয়া অফিস।
টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাট পৌর শহরের প্রধান সড়ক, অলিগলি, কাঁচাবাজার ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমেছে। জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী ও ব্যবসায়ীরা। যদিও জেলার নদ-নদীর পানির স্তর কিছুটা বেড়েছে, তবে তা এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে বলে জানিয়েছে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড।
অপরদিকে, ভারী বৃষ্টিপাতে জেলার কৃষি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আউশ ধান, রোপা আমনের বীজতলা, মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির অন্তত ৭০২ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।বাগেরহাট শহরের ব্যবসায়ী সেলিম শেখ বলেন, ‘ভোর রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে শহরের কেন্দ্রীয় কাঁচাবাজার, পৌরসভার সামনের সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে গেছে। অনেক দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে পানি ঢুকেছে।
বিভিন্ন স্থান থেকে ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।’
রিকশাচালক জামাল ব্যাপারী বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই পৌরসভার সামনের সড়ক হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে আমাদের মোটরচালিত রিকশার মোটর নষ্ট হয়। ভাঙা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে রিকশারও ক্ষতি হয়। এগুলো মেরামত করতেই আয়ের বড় একটি অংশ ব্যয় হয়ে যায়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, ‘ভারী বৃষ্টিতে জেলার ৭০২ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জমিতে পানি জমে থাকায় ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি আরো বাড়তে পারে।’
তবে এখন পর্যন্ত জেলার কোনো মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যায়নি বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘এখনও কোনো ঘের প্লাবিত হয়নি। তবে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়া বা ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।