টানা ১৮ মাস ধরে চলা তীব্র সরকারবিরোধী ও ছাত্র বিক্ষোভের মুখে অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ। শনিবার (২৭ জুন) রাজধানী বেলগ্রেডে বিশাল এক সরকারপন্থী সমাবেশে তিনি জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি পদত্যাগ করবেন এবং দেশে আগাম রাষ্ট্রপতি ও সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সার্বিয়ায় রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও ভুচিচ এতদিন দল ও সরকারের ওপর একক প্রভাব বজায় রেখেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে তিনি আগামী সংসদীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং তার দল জয়ী হলে তিনি পুনরায় দেশটির ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। এর মাধ্যমে ক্ষমতা পদবি নির্বিশেষে ভুচিচের হাতেই থেকে যাবে।
ওয়ারশ-ভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাদিভোয়ে গ্রুইচ বলেন, এটি মোটেও ভুচিচের শেষ নয়। তার মাথায় ইতিমধ্যেই নতুন পরিকল্পনা আছে এবং তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন না।
সমাবেশে ভুচিচ তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিক্ষোভকারীরা দেশের ক্ষতি করছে এবং তাদের পেছনে বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে। তবে একই সাথে তিনি দেশে দুর্নীতি নির্মূল, দরিদ্রদের জন্য পেনশন ও আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য খাতের উন্নতির প্রতিশ্রুতি দেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য পদের প্রার্থী দেশ হিসেবে সার্বিয়াকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং দুর্নীতি দমনের শর্ত পূরণ করতে হবে। তবে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভুচিচ ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে দেশে দুর্নীতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ ও বিরোধী মত দমনে লিপ্ত রয়েছেন।