মাদক ব্যবসায় বিরোধ ও ক্ষোভের জের ধরে প্রথমে সংঘবদ্ধ হামলা ও পরে পিটিয়ে লাশ ফেলে দেয়া হয় পাশের একটি পুকুরে। টানা চারদিন অজ্ঞাত থাকার পর ভিকটিমের লাশ অর্ধ-গলিত অবস্থায় পানিতে ভেসে উঠলে খুঁজে পায় স্বজনরা। পরবর্তীতে এ ঘটনায় মামলা হওয়ার দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও অজানাই থেকে যায় ভিকটিমের মৃত্যুর কারণ। অবশেষে দীর্ঘ সময় পর সেই ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে রাজধানী উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উঠে এসেছে রাজধানী অদূরের আশুলিয়ার মধুপুর এলাকার হাসিবুল ইসলাম জনি (২১) হত্যাকান্ডের এমন চাঞ্চল্যকর রহস্য।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন মধুপুর উত্তরপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসার বিরোধ ও ক্ষোভের জের ধরে হাসিবুল ইসলাম জনি নামের এক যুবককে দলবল নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে মো. শাহজালাল সরকার (২৮) ও মো. সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য আসামিরা।
ঘটনার রাতে ভিকটিম জনি তার বন্ধু সোহাগ ও রানা খানকে নিয়ে স্থানীয় নাজমুল হোসেনের পুকুরের পাশে বসে মাদক সেবন ও কেনাবেচা করছিল। ঠিক সে সময় ওই মাদক ব্যবসাকে ঘিরে শাহজালাল সরকার ও সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে জনির ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় সহযোগী দুই বন্ধু পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে গেলেও হামলাকারীরা জনিকে ধরে ফেলে এবং লাঠিসোডা দিয়ে পিটিয়ে হত্যার পর জনির লাশ পুকুরে ফেলে পালিয়ে যায় আসামীরাও। ঘটনার ছয়দিন পর ভিকটিমের বাবা মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা করলে পরবর্তীতে ছায়াতদন্তে নেমে হত্যা রহস্য উন্মোচন করেছে পিবিআই। সংবাদ সম্মেলনে ওই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা এভাবেই তুলে ধরেছেন পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম.এম মোর্শেদ।
এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি জানান, তদন্তে নেমে পিবিআই টিম একই এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) মো. শাহজালাল সরকারকে গ্রেপ্তার করে। পরে শাহজালালের দেয়া তথ্যে অপর আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। গ্রেপ্তার শাহজালাল সরকার ঢাকা জেলার ধামরাই থানাধীন পটল এলাকার আলমগীর সরকারের ছেলে। অপর আসামি সাইফুল রাজবাড়ী জেলার পাংশ থানাধীন উদয়পুর গ্রামের নূর আলী খানের ছেলে। তারা দুজনই আশুলিয়ার মধুপুর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।
গ্রেপ্তার আসামীরা আদালতে হাসিবুল ইসলাম জনি হত্যাকান্ডে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম.এম মোর্শেদ।