সপ্তাহের ব্যবধানে রংপুর নগরীর খুচরা বাজারে পোলট্রি মুরগির ডিম ও বেশ কয়েকটি সবজির দামে স্বস্তি ফিরেছে। তবে পাকিস্তানি সোনালী ও হাইব্রিড জাতের মুরগির দাম বেড়েছে।
স্থিতিশীল রয়েছে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, মাছ ও মাংসের দাম।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে নগরীর ধাপ, মুলাটোলসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
এদিকে রংপুরের ৮ উপজেলায় অতিরিক্ত দামে নিত্যপণ্যের বিক্রয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসন এসব বাজার মনিটনিং করছে।
বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের মতোই অপরিবর্তিত। তবে পাকিস্তানি সোনালী মুরগির কেজি ৩২০-৩৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৩০-৩৪০ টাকায় এবং পাকিস্তানি হাইব্রিড জাতের মুরগি ২৮০-৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩১০-৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাকিস্তানি লেয়ার মুরগি ৩৩০-৩৪০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৮০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আরো পড়ুন
পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া ১১ হাজার নাবিককে উদ্ধারের উদ্যোগ আইএমও-র
পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া ১১ হাজার নাবিককে উদ্ধারের উদ্যোগ আইএমও-র
অন্যদিকে, পোলট্রি মুরগির লাল ডিমের বাজারে স্বস্তি ফিরেছে।
গত সপ্তাহে প্রতি হালি ডিম ৩৮-৪০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ৩৫-৩৬ টাকায় নেমে এসেছে।
ধাপ বাজারের মুরগি বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম স্থিতিশীল থাকলেও পাকিস্তানি সোনালী মুরগির সরবরাহ কমে গেছে। ফলে দাম কিছুটা বেড়েছে।
একই বাজারের ডিম বিক্রেতা রনি মিয়া জানান, গত এক মাসের তুলনায় ডিমের দাম অনেকটাই কমেছে। পাইকারি বাজারে ১০০টি ডিম কিনতে ৮৫০ টাকা খরচ হচ্ছে।
খুচরা বাজারে খুব সামান্য লাভে ডিম বিক্রি করছি।
সবজির বাজারে ঘুরে দেখা যায়, মৌসুমি সবজির সরবরাহ বাড়ায় বেশ কয়েকটি সবজির দাম কমেছে। কাঁকরোল ৫০-৬০ টাকা থেকে কমে ৪০-৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০-৫০ টাকা থেকে কমে ৩৫-৪০ টাকা, পটল ৩০-৪০ টাকা থেকে কমে ২৫-৩০ টাকা, করলা ৪০-৫০ টাকা থেকে কমে ৩৫-৪০ টাকা এবং কচুরমুখী ৫০-৬০ টাকা থেকে কমে ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচকলার হালি ২৫-৩০ টাকা এবং গাজর ২০০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আরো পড়ুন
আর্জেন্টাইন তারকা ইস্যুতে বিপদে পড়তে পারে বার্সেলোনা
আর্জেন্টাইন তারকা ইস্যুতে বিপদে পড়তে পারে বার্সেলোনা
তবে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। সজনে ১৮০-২০০ টাকা, লাউ ৪০-৫০ টাকা, কার্ডিনাল আলু ২০-২৫ টাকা এবং আমদানি করা আদা ১৪০-১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দামও বেড়ে ৫০-৬০ টাকায় পৌঁছেছে। পেঁয়াজ-৩০-৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রয় হচ্ছে।
মুলাটোল বাজারের সবজি বিক্রেতা হায়দার মিয়া বলেন, সপ্তাহের ব্যবধানে দু’একটি সবজির দাম বাড়লেও বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। বর্তমানে ২০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে অনেক ধরনের সবজি পাওয়া যাচ্ছে। এতে ক্রেতাদের চাপ কিছুটা কমেছে।
তিনি আরো বলেন, দাম কমলে বিক্রি বাড়ে। তখন ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই লাভবান হন।
মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৭২০-৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আরো পড়ুন
সভা-সেমিনার ফি, সম্মানী ও প্রশিক্ষণ ভাতার ওপর কর বাড়ছে
সভা-সেমিনার ফি, সম্মানী ও প্রশিক্ষণ ভাতার ওপর কর বাড়ছে
চালের বাজারেও বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন নেই। স্বর্ণা (মোটা) চাল ৪৮-৫০ টাকা, স্বর্ণা (চিকন) ৫৫-৬০ টাকা, বিআর-২৮ ৬৫-৭০ টাকা, বিআর-২৯ ৬০-৬৫ টাকা, জিরাশাইল ৬০-৬৫ টাকা এবং মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল ৮৫-৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ডাল ও ভোজ্যতেলের বাজারও স্থিতিশীল রয়েছে। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৫-২১০ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ২০০-২২০ টাকা, মসুর ডাল ১০০-১৮০ টাকা, মুগডাল ১৫০-১৬০ টাকা এবং বুটের ডাল ১১০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে রুই মাছ ৩০০-৩৮০ টাকা, কাতল ৩০০-৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৫০ টাকা, পাঙাস ১৫০-২৫০ টাকা, টেংরা ৪০০-৫৬০ টাকা এবং শিং মাছ ৩০০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ মাছের দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে।
আরো পড়ুন
প্রযুক্তিগত বিভ্রাটে জার্মানিজুড়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ
প্রযুক্তিগত বিভ্রাটে জার্মানিজুড়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ
সার্বিকভাবে ডিম ও বেশ কয়েকটি সবজির দাম কমায় রংপুরের বাজারে স্বস্তির আভাস মিললেও মুরগি, কাঁচামরিচ ও কিছু পণ্যের দাম বাড়ায় ক্রেতাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে। তবে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় আগামী সপ্তাহগুলোতে দাম আরো সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা।
রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মূল্য আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত অভিযান ও মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরো বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে আগামী দিনগুলোতেও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।