রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৫৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
আয়ুর্বেদিক ওষুধের আধুনিক সংরক্ষণ ও প্যাকেজিং ব্যবস্থা নিয়ে জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান পরিবেশ মন্ত্রীর ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প-পুতিন কাতার থেকে অবরুদ্ধ ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান শিশুকে অপহরণের পর হত্যা, ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড শিশুকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর জানায় ক্রাইম পেট্রোলে আসক্ত কিশোরী বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে এখন সবচেয়ে বড় সুযোগ হচ্ছে প্রযুক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো। তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিচে, নীলফামারীতে বন্যার শঙ্কা নেই মিছিলের সময় আ. লীগের ১০ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশে দিল ছাত্রদল মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে এখন সবচেয়ে বড় সুযোগ হচ্ছে প্রযুক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো।

উত্তরা নিউজ প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে এখন সবচেয়ে বড় সুযোগ হচ্ছে প্রযুক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো। তিনি বলেন, আমাদের গবেষকদের যে মেধা আছে, আমাদের ১৮ কোটি লোকের যে মেধা আছে,ইনোভেশনের যে সুযোগ আমাদের আছে, এটা বিশ্বের অনেক দেশের নেই।
এটিকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আজ(রবিবার)
ঢাকায় আগারগাঁও এ জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্স-এর মাল্টি পারপাস হল এ ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্টের ফেলোদের গবেষণা কার্যক্রমের অগ্রগতি ও লব্ধ জ্ঞান মূল্যায়ন’ শীর্ষক দুই(০২)
দিন ব্যাপী সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, অনেক দেশের অনেক সম্পদ আছে, অর্থ আছে কিন্তু তাদের মানব সম্পদ নেই। বিশ্বের অনেক দেশ সামনের দিকে এগোতে পারবে না কারণ তাদের প্রয়োজনীয় হিউম্যান রিসোর্স বা মানব সম্পদে নেই। আমাদের যে প্রায় ৬৫% তরুণ জনসংখ্যা আছে এদেরকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে।আমাদের যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে।

তিনি বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স(এআই) সকল সমস্যার সমাধান দিবেনা। এআই(Ai) সাজেস্ট করতে পারে কিন্তু ডিশিসন দিতে পারেনা, ডিশিসন দিতে পারে মানুষ। আর সেই মানুষ আমাদের আছে যা অনেক দেশের নাই। আমাদের যারা ইয়াং সায়িন্টিস্ট আছেন তারা ভবিষ্যতে অনেক ভালো করবে আশা করছি।

সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, সামনের দিনগুলোতে আমরা যেটা করার চেষ্টা করছি সেটা হচ্ছে গবেষণার সাথে বাজারের সংযোগ তৈরী করা। আমাদের মিনিস্ট্রির মেজর পিলার হচ্ছে আমাদের গবেষণার ফলাফল কে মার্কেটে নিয়ে যাওয়া। গবেষণার ফলাফলকে সত্যিকার অর্থে সাধারণ মানুষের জীবন মানের উন্নয়নের জন্য, অর্থনীতির জন্য কাজে লাগানোটা হচ্ছে বড় চ্যালেঞ্জ। সেটা কিন্তু আপনাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়।

গবেষকদের উদ্দেশ্যে সচিব বলেন, আপনারা যখন যে গবেষণা করছেন গবেষণার ফলগুলো আমাদের কি কাজে লাগবে, কি উপকারে লাগবে এবং সেটা নেক্সট লেভেলে নিয়ে যাওয়ার জন্য কি কি সহযোগিতা আপনাদের লাগবে তা আমাদের জানাবেন। এর পর থেকে আমরা চিন্তা করছি গবেষণার ফলাফল নেক্সট লেভেলে নিয়ে যাওয়ার জন্য যা যা করা দরকার আপনারা প্রস্তাব দিলে বা যেকোনো সাজেশন দিলে আমরা সেটা বিবেচনা করবো ভালোভাবে আপনাদের সহযোগিতা করার।

বিজ্ঞান সচিব বলেন, গবেষণায় যেন ইম্পেক্ট আসে, গবেষণার ফলাফল যেন জীবনমানের উন্নয়নের জন্য, অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু রিসার্চ হলে হবেনা। গবেষণা কমার্শিয়ালি ভায়াবল হতে হবে এবং খাত ভিত্তিক গবেষণা করতে হবে। গবেষণা করে প্রথমত যে ফলাফলটা আনবেন সেটাকে পরবর্তী ধাপে নেয়ার জন্য আপনাদের রিচার্স এর অবজেক্টিভ এবং গোলটা থাকতে হবে, যাতে এর একটা ইম্প্যাক্ট আসে, ফলাফল আসে, কাজে লাগে।

তিনি বলেন, গবেষণার ক্ষেত্রে আমাদের একটি
উদ্দেশ্য হচ্ছে রপ্তানি বহুমুখীকরণ করা।
রপ্তানি বহুমুখীকরণের বড় চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে
আমাদের পণ্যের বাস্কেট যেটা এটা খুব সীমিত।
আমাদের এক্সপোটের বড় অংশ হচ্ছে প্রায় ৮৫% গার্মেন্টস। বাকি ১৫% হচ্ছে অন্যান্য প্রোডাক্ট।
আমাদের এত সীমাবদ্ধতা যে অন্যান্য প্রোডাক্টগুলো আমরা ডেভলপ করতে পারছি না।প্রোডাক্টের হয়তো মার্কেটে আছে , সেটাকে মানসম্মত প্রোডাক্টে উন্নত করে প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নিয়ে গ্লোবাল মার্কেটে প্রতিযোগিতা করা সেই কাজটা আমাদের এখনো হয়নি। এটা কিন্তু আমাদের গবেষণার বিষয় এবং এই গবেষণা আমাদের করতে হবে।

সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলো ড. আবু হেনা মুহাম্মদ ইউসুফ “Unlocking The Blue Economy: Marine Spatial Planning(MSP) ForThe Sustainable Ocean Governance In The Bay Of Bengal” শীর্ষক গবেষণা পত্র পাওয়ার পয়েন্টে উপস্থাপন করেন। গবেষণা উপস্থাপনায় তিনি সমুদ্রে বাংলাদেশের যত রকমের রিসোর্স আছে তার একটা ডাটা ইনফ্রাস্ট্রাকচার গঠন করার কথা বলেন এবং ব্লু-ইকোনোমি সেলকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে জোর দেন ।সমুদ্র সম্পদ আহরণের জন্য একক শক্তিশালী সংস্থা গঠন এর বিষয়টি তিনি তাঁর গবেষণাপত্রের উপস্থাপনায় উল্লেখ করেন। এছাড়া সেমিনারে বিসিএসআইআর এর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, খুলনা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকগণ তাদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন।

সেমিনারে সভাপতির বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও যুগ্মসচিব একেএম শওকত আলম মজুমদার এবং বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) এর চেয়ারম্যান ড.সামিনা আহমেদ।

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট হতে ফেলোশিপ প্রাপ্ত (বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও ছাত্র-ছাত্রী) ফেলোগণ অংশগ্রহণ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102