রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
আয়ুর্বেদিক ওষুধের আধুনিক সংরক্ষণ ও প্যাকেজিং ব্যবস্থা নিয়ে জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান পরিবেশ মন্ত্রীর ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প-পুতিন কাতার থেকে অবরুদ্ধ ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান শিশুকে অপহরণের পর হত্যা, ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড শিশুকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর জানায় ক্রাইম পেট্রোলে আসক্ত কিশোরী বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে এখন সবচেয়ে বড় সুযোগ হচ্ছে প্রযুক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো। তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিচে, নীলফামারীতে বন্যার শঙ্কা নেই মিছিলের সময় আ. লীগের ১০ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশে দিল ছাত্রদল মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

নিজের জনপ্রিয়তার দিকে নজর দিন—ট্রাম্পকে মেলোনির পরামর্শ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

ইউরোপ ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সহজাত মিত্র। কিন্তু বছরের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউরোপ ও ন্যাটোর কাছে সাহায্য চেয়েও না পেয়ে বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তারপর থেকেই ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে আগের সেই হৃদ্যতা আর নেই।যুদ্ধ বন্ধে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর গত সপ্তাহে ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে আসছিল। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্যে একসময়ের সবচেয়ে কাছের মিত্র ইতালির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন তলানিতে। দুই নেতার সাম্প্রতিক কথার লড়াই সে সম্পর্ককে আরো তিক্ত করেছে।

শুরুটা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পই। ফ্রান্সে জি-৭ বৈঠক চলাকালে ইতালির লা সেভেন টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ‘তিনি (ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি) আমার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য বারবার মিনতি করেছিলেন। তিনি খুব বেশি করে ছবি তুলতে চেয়েছিলেন। আমি ছবিটা তুলতামই না, কিন্তু তার জন্য আমার খারাপ লেগেছিল।

মেলোনিও কড়া ভাষায় এর প্রতিক্রিয়া জানান, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যগুলো সম্পূর্ণ মনগড়া। সত্যি বলতে আমি হতবাক।’ মেলোনি ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, ‘আপনাকে একটি জিনিস মনে রাখতে হবে, ইতালি এবং আমি কখনো মিনতি করি না।’ ট্রাম্পের মন্তব্য ইতালিকে এতটা ক্ষুব্ধ করেছে যে এর প্রতিক্রিয়ায় ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টোনিও তাজানি তার যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন।

কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টিকে শান্ত হওয়ার সুযোগ না দিয়ে উল্টো আগুনে ঘি ঢেলেছেন।

শনিবার নিজের মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যালে এক স্ট্যাটাসে ট্রাম্প তার পুরনো দাবিই পুনর্ব্যক্ত করেন, ‘ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ফ্রান্সে জি-৭ বৈঠক চলাকালে আমার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন।’

ট্রাম্প দাবি করেন, মেলোনির জনপ্রিয়তা দ্রুত কমে যাচ্ছে। তার ধারণা, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করতে মেলোনির অস্বীকৃতির কারণেই তার জনপ্রিয়তা কমছে। ট্রাম্পের ইঙ্গিত ছিল, জনপ্রিয়তা ফিরে পেতেই মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তুলতে ব্যাকুল ছিলেন।

তবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী আবারও কড়া ভাষায় ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। শনিবারই ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে মেলোনী ট্রাম্পের দাবিকে ‘অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করেন। ফেসবুকে মেলোনি লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, এই ক্রমাগত ও অহেতুক আক্রমণগুলো একেবারেই অর্থহীন।’ মেলোনি দাবি করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক কখনোই তার জনপ্রিয়তায় কোনো ভূমিকা রাখেনি। বরং ইতালির জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আপসহীন ভূমিকাই তার জনপ্রিয়তার মূল কারণ। আর ইতালির স্বার্থ রক্ষা করতেই তিনি ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ডাকে সাড়া দেননি।

মেলোনি ফেসবুকে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে  লিখেছেন, ‘যাই হোক না কেন, আমার জনপ্রিয়তা আপনার চিন্তার বিষয় নয়। আমি পরামর্শ দেবো, আপনি আপনার নিজের জনপ্রিয়তার দিকেই মনোযোগ দিন।’

ছবি তোলা বিতর্কে মেলোনি অবশ্য তার দেশের সমর্থন পেয়েছেন। শনিবার ইতালির একটি কট্টর ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম তাদের প্রথম পাতার শিরোনাম করেছে, ‘ট্রাম্প একজন আস্ত গাধা।’

মেলোনিকে লক্ষ্য করে ট্রাম্পের উপর্যুপরি আক্রমণ, ইতালির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরো অবনতির দিকে নিয়ে যাবে। অথচ ইতালি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ইউরোপিয় মিত্র। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের অভিষেকের সময় ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে একমাত্র মেলোনিই উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে নানা ইস্যুতে একজন আরেকজনের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন। কিন্তু এখন তাদের মধ্যে প্রকাশ্য বৈরিতা বিশ্ব রাজনীতির আলোচিত বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102