সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:

জলবায়ু অভিবাসীদের জন্য সঠিক নীতিমালা এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন এবং এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) অডিটোরিয়ামে কারিতাস বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জলবায়ু অভিবাসীদের জন্য সঠিক নীতিমালা এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক জাতীয় পর্যায়ের পরামর্শ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভায় অতিথি আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও চর্চা ডটকমের সম্পাদক সোহরাব হাসান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী সদস্য শাহীন হাসনাত।

সভায় কারিতাস বাংলাদেশের পরিচালক (সিডিআই) থিউফিল নকরেক স্বাগত বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুত, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কারিতাস বাংলাদেশের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ড. জামিল আহমেদ এবং সমাপনী বক্তব্য দেন কারিতাস বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান আলেকজান্ডার ত্রিপুরা।

সোহরাব হাসান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংকট দিন দিন জটিল আকার ধারণ করছে। এ সংকট মোকাবিলায় পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তিনি বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রে গ্রামের ঠিকানা থাকায় শহরে এসে অনেক জলবায়ু উদ্বাস্তু সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

রফিকুল ইসলাম আজাদ বাস্তুচ্যুত মানুষদের ‘ক্লাইমেট যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দুর্দশা ও টিকে থাকার সংগ্রাম গণমাধ্যমে আরও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের নিয়ে পৃথক নেটওয়ার্ক বা ফোরাম গঠনের পাশাপাশি ফেলোশিপ চালুরও প্রস্তাব দেন তিনি।

শাহীন হাসনাত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়লেও আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে এসেছে। এই শূন্যতা পূরণে সরকার, বেসরকারি সংস্থা এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

আলেকজান্ডার ত্রিপুরা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে খুব কম কার্বন নিঃসরণ করলেও ক্ষতির শিকার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। উন্নত দেশগুলোর দেওয়া সহায়তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু সংকট মোকাবিলাকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সাংবাদিক ড. দীপু সিদ্দিকী বলেন, জলবায়ু অভিবাসীদের সংকট ও সরকারি নীতিমালার বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব রয়েছে। ফলে সাংবাদিকরা অনেক সময় প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করতে তথ্যসংকটে পড়েন।

সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে জাহিদা পারভিন ছন্দা, আল আমীন তৌহিদ, জাহিদ আল আমীন, লতিফ রানা, লোকমান কবীর, কে এম আশরাফ উদ্দিনসহ অনেকে মতামত তুলে ধরেন।

সভায় জানানো হয়, উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও নদীভাঙনের কারণে অভ্যন্তরীণ জলবায়ু অভিবাসনের হার দ্রুত বাড়ছে। এসব পরিবার ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রামের মতো শহরে আশ্রয় নিলেও অনিরাপদ আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক বঞ্চনার মতো নতুন সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।

কারিতাস বাংলাদেশ জানায়, সংস্থাটি দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় এ পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি গৃহ নির্মাণ, পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কমিউনিটি অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে ৪ কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিয়েছে। পাশাপাশি ৩ হাজার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ১৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় ৩২৯টি ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।

সভায় আরও জানানো হয়, জার্মান সরকারের বিএমজেড (BMZ) ও কারিতাস জার্মানির যৌথ অর্থায়নে খুলনা ও সাতক্ষীরায় জলবায়ু অভিবাসীদের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে কাজ করছে কারিতাস বাংলাদেশ। গবেষণা সংস্থা RMMRU ও SCMR-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হতে পারে। এছাড়া জিআইজেডের ২০২৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, শহরে আশ্রয় নেওয়া জলবায়ু অভিবাসীদের ৫৭ শতাংশই সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102