বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ন

মাটির নিচে মৃত্যুর ফাঁদ, মাইনের হুমকিতে ৫৮ দেশ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক মঙ্গলবার বলেছেন, বিশ্বের অন্তত ৫৮টি দেশ ও অঞ্চলে অ্যান্টিপারসোনেল মাইনের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে মায়ানমার, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইউক্রেনে এসব মাইনের কারণে অনেক বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।

সরকার, এনজিও, মানবিক সংস্থা ও সুশীল সমাজের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।

ল্যান্ডমাইন অ্যান্ড ক্লাস্টার মুনিশন মনিটরের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ২০২৪ সালেই ল্যান্ড মাইন এবং যুদ্ধের বিস্ফোরক ধ্বংসাবশেষের কারণে অন্তত ৯৪৫ জন নিহত এবং চার হাজার ৩২৫ জন আহত হয়েছেন।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘যেসব হতাহতের সামরিক বা বেসামরিক পরিচয় জানা গেছে, তাদের মধ্যে ২০২৪ সালে নথিভুক্ত মোট হতাহতের প্রায় ৯০ শতাংশই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।’

২০২৪ সালে সর্বোচ্চসংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে মায়ানমারে (২০২৯), সিরিয়ায় (১০১৫), এরপর আফগানিস্তানে (৬২৪) এবং তারপরে ইউক্রেন, নাইজেরিয়া, মালি, ইয়েমেন ও বুরকিনা ফাসোতে। যেখানে প্রত্যেকটিতে ২০০-এর বেশি হতাহতের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

একটি পৃথক বিবৃতিতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু ব্যান ল্যান্ডমাইনস’ বলেছে, ২০২৫ সালে মাইন এবং ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্রসহ যুদ্ধের বিস্ফোরক ধ্বংসাবশেষের কারণে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিহত বা আহত হয়েছে। তাদের অধিকাংশই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।

ভলকার তুর্কের দপ্তর উল্লেখ করেছে, ১৯৯৯ সাল থেকে নথিভুক্ত অ্যান্টিপারসোনেল মাইনের কারণে হওয়া সব বেসামরিক হতাহতের ৪০ শতাংশেরও বেশি শিশু। ভলকার তুর্কের দপ্তর আরো বলেছে, হত্যা ও অঙ্গহানির পাশাপাশি অ্যান্টিপারসোনেল মাইন এলাকাগুলোকে প্রবেশ-নিষিদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করে। অ্যান্টিপারসোনেল মাইন মানুষের বিভিন্ন অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করে, বাস্তুচ্যুত মানুষের নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়া বিলম্বিত করে এবং কৃষিজমি চাষাবাদের অনুপযোগী করে তোলে।

অটোয়া মাইন নিষিদ্ধকরণ কনভেনশনের সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা ১৬২ হলেও, বিপুলপরিমাণ মাইন মজুদ থাকা বেশ কিছু দেশ এখনো এই চুক্তিতে যোগ দেয়নি বলে উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক।

সম্প্রতি এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং পোল্যান্ড এই চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেন চুক্তিটির বাস্তবায়ন স্থগিত রেখেছে। তুর্ক বলেন, যেসব দেশ এখনো চুক্তিটি অনুমোদন করেনি, তাদের দ্রুত তা করা উচিত। আর যেসব দেশ চুক্তি থেকে সরে গেছে, তাদের আবার এতে যোগ দেওয়া উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102