বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০১:১৫ অপরাহ্ন

‘আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বাংলাভাষীদের সীমান্তে পুশইন করছে বিএসএফ’

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বেআইনিভাবে পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী, প্রধানত মুসলিম নাগরিকদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই এসব মানুষকে বাংলাদেশ সীমান্তে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) তাদের প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা করছে। ফলে বহু পরিবার দুই দেশের সীমান্তের ‘জিরো পয়েন্টে’ আটকে পড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১ জুন ২০২৬ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০০ জনের বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে শিশু রয়েছে, সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এ সময়ে বিজিবি ২১টি এমন ‘পুশব্যাক’ চেষ্টা প্রতিহত করেছে বলে জানানো হয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীদের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিএসএফ রাতের অন্ধকারে গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে। একাধিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা পেয়ে তারা আবার ভারতেও ফিরতে পারেনি, ফলে সীমান্তবর্তী ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’ দীর্ঘ সময় মানবেতর অবস্থায় থাকতে হয়েছে।

বাংলাদেশের পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সীমান্ত এলাকায় কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়, কোথাও কোথাও ৪৮ থেকে ৭৫ ঘণ্টা পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে আটকে ছিল। পরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আলোচনা শেষে কিছু ক্ষেত্রে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উপ-এশিয়া পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই মানুষকে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তিনি এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানান এবং দুই দেশের মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব নির্ধারণের ব্যবস্থা জোরদারের পরামর্শ দেন।

প্রতিবেদনে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী মুসলিমদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগও উঠে এসেছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় অনেকের নাম বাদ পড়ার পর তাদের আটক ও বহিষ্কারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, অনেক বাংলাদেশি অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান করছে এবং স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, জোরপূর্বক বহিষ্কার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থি এবং এতে নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সীমান্তে আটকে পড়া এসব মানুষের মধ্যে কেউ কেউ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় আটক হয়েছেন এবং পরে সীমান্তে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাটি ভারত ও বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা যেন মানবিক মর্যাদা ও আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে না যায় এবং কোনো ব্যক্তিকে দুই দেশের মাঝামাঝি অবস্থায় মানবেতরভাবে আটকে রাখা না হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102