শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
প্রাকৃতিকভাবে লিভার পরিষ্কার করার কিছু টিপস ৭ নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে বিএনপি নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খসড়া চুক্তি ‘অনলাইনে’ স্বাক্ষর হবে: আরাগচি নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০ পণ্যের কর প্রত্যাহার করা হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী ফের ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফেরত নিয়েছে বিএসএফ মে মাসে সড়কে ৬২২ প্রাণহানি ‘ব্রাজিল তো ব্রাজিলই’— এটা আগের ব্রাজিল দল নয় মন্তব্যের উত্তরে হাকিমি টঙ্গীতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ‘গ্লোবাল কিডস স্কুলে’ ফল উৎসব ও শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালন স্বামী জেককে নিয়ে ট্রোলের জবাব দিলেন মিলি ববি ব্রাউন ইরানের অনুশীলন ভেন্যুর কাছে মিলল গলিত লাশ

সমালোচনাগুলি আমলে নিন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবৎসরের জন্য ৯ লক্ষ ৩৮ সহস্র কোটি টাকার যেই বিশাল বাজেট প্রস্তাব করা হইয়াছে, জনপরিসরে ইহা লইয়া আলোচনা চলিতেছে। বিশ্লেষকদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষেরাও তাহাদের মতামত জানাইতেছেন। এই সকল আলোচনা ও বিশ্লেষণের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আশাব্যঞ্জক কিছু বিষয় থাকিলেও প্রস্তাবিত বাজেট শেষাবধি কথার ফুলঝুরি হইবার আশঙ্কা উড়াইয়া দেওয়া যায় না। অর্থমন্ত্রী ইহাকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বাজেট বলিলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতির খড়্গ হইতে মুক্তির পাশাপাশি আয়-উপার্জন বৃদ্ধিসংক্রান্ত, সাধারণ মানুষের আশু প্রত্যাশার কতটা পূরণ হইবে, সেই প্রশ্নটাই অধিকতর জোরালো হইয়া উঠিয়াছে।

চলতি অর্থবৎসরের তুলনায় এইবার এক লক্ষ ৪৮ সহস্র কোটি টাকা অধিক খরচের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করাটা যে উচ্চাভিলাষী, তাহা অর্থমন্ত্রীও অস্বীকার করেন নাই। কিন্তু যেইখানে চলতি অর্থবৎসরে রাজস্ব আয় পাঁচ লক্ষ ৮৮ সহস্র কোটি টাকা সংগ্রহ করিতে গিয়া সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ রীতিমতো হিমশিম খাইতেছে, সেইখানে আগামী অর্থবৎসরে ৬ লক্ষ ৯৫ সহস্র কোটি টাকা তুলিবে কীভাবে? সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাও তাই প্রশ্নের জন্ম দিয়াছে। এই দেশে কোনো কালেই উন্নয়ন বা প্রবৃদ্ধি লম্ফ দিয়া বাড়ে নাই, বরাবরই তাহা ক্রমে ক্রমে বাড়িয়াছে। তদুপরি, এক সময় অর্থনীতি গড়ে ৬ শতাংশ হারে বাড়িলেও যেই সকল অভ্যন্তরীণ সংকট গত তিন বৎসর যাবৎ প্রবৃদ্ধিকে ৪ শতাংশের নিচে নামাইয়া আনিয়াছে, সেইগুলি প্রায় সর্বাংশেই বহাল রহিয়াছে; বাহ্যিক সংকটও কমে নাই, বরং বাড়িয়াছে। অর্থমন্ত্রী দাবি করিতে পারেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রক্রিয়া সহজ করিবার পাশাপাশি ব্যবসাবান্ধব নানা প্রণোদনা বাজেটে রহিয়াছে। কিন্তু এইগুলির সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করিয়া থাকে সংশ্লিষ্ট আরও বহু বিষয়ের উপর। যেমন–নিবন্ধন, বিভিন্ন অনুমোদন, ছাড়পত্রসহ ব্যবসাসংক্রান্ত অন্যান্য সরকারি সেবার আবেদন সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করিবার কথা বাজেটে বলা হইয়াছে। বিগত সময়ে বহুলশ্রুত ওয়ান স্টপ সেবা অপেক্ষা ইহা কতটা অভিনব আমরা জানি না; তবে যেই জটিল প্রক্রিয়ার জন্য ঐ কথিত ওয়ান স্টপ সেবা কার্যকর হয় নাই, তাহা কীভাবে এই স্বল্প সময়ে সহজ করা হইবে? আমলাতন্ত্র কি হেথায় স্বভাবজাত প্যাঁচ কষিবে না? ব্যবসায়ীরা দাবি করিয়াছিলেন নানা নামের করের বোঝা কমাইয়া নির্বিঘ্নে ব্যবসা করিবার অধিকার। বিশেষত করপোরেট কর কমানোর দাবিটি উপেক্ষিত হইয়াছে। অর্ধশতাধিক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব সাধুবাদযোগ্য, তবে ডলারের বিপরীতে টাকার অনেক কম মূল্য আমদানি বৃদ্ধির পথে বড় অন্তরায়। উপরন্তু, এহেন কর হ্রাসের সুফল অতীতে ভোক্তারা তেমন পান নাই। এই কারণে বর্তমানের প্রায় দুই অঙ্কের মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামাইয়া আনাও কঠিন হইবে। দেশি বা বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান শর্ত যেই জ্বালানি-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, তাহার নিশ্চয়তা লইয়াও সংশয় রহিয়াছে। এই সকল সমস্যার সহিত ব্যাংক ঋণের উচ্চসুদের প্রশ্নটি বিবেচনায় লইলে আগামী দিনে ব্যবসা-বাণিজ্যে চাঙ্গাভাব ফিরাইয়া আনা দুরূহই বলিতে হইবে।
সরকার কর ব্যবস্থা ও ব্যাংক খাতের অনেক জটিলতাই স্বীকার করিয়াছে। এই সংক্রান্ত সংস্কারের কিছু সম্ভাবনাও তুলিয়া ধরা হইয়াছে। কিন্তু গত তিন মাসের অভিজ্ঞতা এই সন্দেহ দূর করে না যে, অর্থায়নের তীব্র সংকটের কারণে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ-এডিবির ন্যায় আন্তর্জাতিক ঋণ সংস্থার দ্বারস্থ না হইতে হইলে এই আলাপ তাহারা তুলিত না। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বর্ধিত বরাদ্দের সহিত তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ ধারণা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ আশাব্যঞ্জক। কিন্তু এইগুলির কোনোটাই চটজলদি অর্জনের বিষয় নহে। এই জন্য যেই দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন, তাহা সরকারের রহিয়াছে কিনা সময়ই বলিবে। আপাতত এইটুকুই প্রত্যাশা, সংসদে বিস্তারিত আলোচনার পাশাপাশি বিশ্লেষকসহ সকল পেশাজীবী সংগঠনের মত ও পরামর্শ শুনিয়া সরকার বাজেটটিকে চূড়ান্ত করিবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102