শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ন

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে অপরাধী চক্রের নেতা নিহত, দাবি ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
 প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একটি বিশেষ হামলা চালিয়ে নিনো গেরেরোকে হত্যা করেছে। নিনো গেরেরোর আসল নাম হেক্টর রাস্টেনফোর্ড গেরেরো ফ্লোরেস।তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ নামে পরিচিত একটি অপরাধী চক্রের নেতা ছিলেন। এই গ্যাংটি লাতিন আমেরিকার অন্যতম কুখ্যাত অপরাধী সংগঠন হিসেবে পরিচিত।

ট্রাম্পের অভিযোগ, এই গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম চালাচ্ছিল।
তার প্রশাসন ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’কে ইসলামিক স্টেটের মতো একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিওও শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সবুজ রঙের ভবন ও তার পাশের একটি ছোট স্থাপনা বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
 

ট্রাম্প আরো বলেছেন, এই সামরিক অভিযান ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়েছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা এ বিষয়ে খুব ভালোভাবে একসঙ্গে কাজ করেছে।

জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী এক বিশেষ অভিযানে তৎকালীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার বাসভবন থেকে আটক করে। পরে তাকে নিউইয়র্কে নেওয়া হয়, যেখানে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তিনি ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ গ্যাংয়ের সঙ্গে মিলে আমেরিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ প্রথমে একটি কারাগারভিত্তিক গ্যাং ছিল। এর নেতা নিনো গেরেরো এটিকে পরে একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রে পরিণত করেন। তাকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্র লাখ লাখ ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল।

গেরেরোর নেতৃত্বে গ্যাংটি তাদের কার্যক্রম কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু এবং চিলিতে ছড়িয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে অভিবাসীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি, যৌন পাচার, ভাড়াটে খুন এবং অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

গেরেরো বছরের পর বছর জেল খেটেছেন। ২০১২ সালে তিনি একজন প্রহরীকে ঘুষ দিয়ে পালিয়ে যান এবং ২০১৩ সালে পুনরায় গ্রেপ্তার হন। ফিরে এসে তিনি উত্তর ভেনেজুয়েলার আরাগুয়া রাজ্যের টোকোরোন কারাগারকে একটি বিনোদন কেন্দ্রে রূপান্তরিত করেন, যেখানে চিড়িয়াখানা, রেস্তোরাঁ, নাইটক্লাব, বেটিং শপ এবং সুইমিং পুল ছিল।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মাদুরো কারাগারটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে এবং তা দখল করতে ১১ হাজার সৈন্য পাঠান। গেরেরো আবারও পালিয়ে যান।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, জেলের ভেতরে-বাইরে থাকা সত্ত্বেও তিনি তার গ্যাংয়ের প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন এবং বলিভার রাজ্যের সোনার খনি, ক্যারিবিয়ান উপকূলের মাদক করিডোর এবং ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার মধ্যে গোপন সীমান্ত পারাপারের পথগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেন।

বেশিরভাগ বিবরণ অনুসারে, ২০১৪ সালে ভেনেজুয়েলা যখন মানবিক ও অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থার সম্মুখীন হয়, তখন অপরাধ কম লাভজনক হয়ে পড়লে ট্রেন দে আরাগুয়া দেশটির বাইরে ছড়িয়ে পড়ে এবং এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আরো আটটি দেশে এর শাখা-প্রশাখা রয়েছে বলে মনে করা হয়।

‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ বিভিন্ন দেশে তাদের কার্যক্রম চালানোর জন্য স্থানীয় অপরাধী চক্রগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, ইকুয়েডরে গ্যাংটি সিনালোয়া কার্টেলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা কিছু গোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করে বলে মনে করা হয়। আবার কলম্বিয়াতে তাদের সদস্যরা ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন) নামের একটি সশস্ত্র গেরিলা সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে কাজ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী সমুদ্রে কয়েক ডজন নৌকার ওপর অভিযান চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব নৌকা বড় আকারে মাদক পাচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তাদের মতে, এসবের মধ্যে কিছু নৌকার সঙ্গে ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’রও সম্পর্ক ছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102