মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, অনেক সময় সমাজের কল্যাণে কাজ করা মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন মৃত্যুর পর করা হয়। অথচ জীবদ্দশায় তাদের যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি প্রদান করা হলে ভবিষ্যতে আরও অনেক মানুষ সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত হবেন।
আজ সকালে কুমিল্লা জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কুমিল্লা জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘গুণীজন সম্মাননা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সমাজ ও মানবকল্যাণে নিবেদিতভাবে কাজ করা ব্যক্তিদের যথাযথ সম্মান প্রদান করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা অতীত প্রজন্মের কাছ থেকে একটি সমাজ ও পৃথিবী উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। এখন আমাদের দায়িত্ব আগামী প্রজন্মের জন্য আরও সুন্দর, মানবিক ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে দিয়ে যাওয়া।
তিনি বলেন, করোনা মহামারির কঠিন সময়ে যখন অনেকেই আতঙ্কে ঘরবন্দি ছিলেন, তখন কিছু সাহসী ও মানবিক মানুষ নিজেদের ঝুঁকি উপেক্ষা করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
মন্ত্রী আরও বলেন, অন্যকে উপদেশ দেওয়ার আগে নিজেদের সংশোধন করা জরুরি। আমরা যদি নিজেদের আচরণ ও কর্মের মাধ্যমে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারি, তাহলে সমাজ পরিবর্তনের অধিকার ও গ্রহণযোগ্যতা দুটোই অর্জিত হবে।
অনুষ্ঠানে সমাজসেবা, শিক্ষা, চিকিৎসা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের অবদান ও বিশেষ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ কুমিল্লার পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে ‘গুণীজন সম্মাননা-২০২৬’ প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি তাদের হাতে সম্মাননার ক্রেস্ট তুলে দেন।
বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি, কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি ইয়াসমিন রীমার সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা এমরানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাইফুল মালিক।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির বিভিন্ন উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।