মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
حَتّٰۤی اِذَا فُتِحَتۡ یَاۡجُوۡجُ وَ مَاۡجُوۡجُ وَ هُمۡ مِّنۡ كُلِّ حَدَبٍ یَّنۡسِلُوۡنَ
সরল অনুবাদ :
‘অবশেষে যখন ইয়াজুজ ও মাজুজকে মুক্তি দেয়া হবে, আর তারা প্রতিটি উঁচু ভূমি হতে ছুটে আসবে।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৯৬)
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা :
হুজায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা কয়েকজন সাহাবি একত্রিত হয়ে পরস্পর কিছু আলোচনা করছিলাম।
এরপর আল্লাহ বিশেষ পাখি বা বৃষ্টির মাধ্যমে তাদের মৃতদেহ পরিষ্কার করবেন। (এ আয়াতে ইয়াজুজ-মাজুজের আত্মপ্রকাশের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে فتحت শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এর বাহ্যিক অর্থ হলো, সেই নির্ধারিত সময়ের পূর্বে তারা কোন বাধার সম্মুখীন হয়ে থাকবে।
حدب শব্দের অর্থ প্রত্যেক উচ্চ ভূমি-বড় পাহাড় কিংবা ছোট ছোট টিলা। (ইবন কাসির) সুরা কাহফে ইয়াজুজ-মাজুজের আলোচনা থেকে তাদের বর্তমান অবস্থান কোন কোন পর্বতমালার পশ্চাতে তা জানা যায়। তাই আত্মপ্রকাশের সময় তারা পর্বত ও টিলাসমূহ থেকে বের হয়ে জমিনের মধ্যে ফাসাদ সৃষ্টি করবে। (ইবন কাসির, তাফসিরে জাকারিয়া)
ইয়াজুজ-মাজুজের বিস্তারিত বিবরণ সুরা-কাহফের শেষে (৯৩-৯৮ আয়াতে) উল্লেখ করা হয়েছে। কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে ঈসা (আ.)-এর বর্তমানে তাদের আত্মপ্রকাশ ঘটবে। এরা এত বেশি দ্রুত পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে যে, মনে হবে প্রতিটি উঁচু জায়গা হতেই তারা ছুটে আসছে। তাদের অনিষ্টতা ও অত্যাচারে মুসলিমরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠবে। এমনকি ঈসা (আ.) মুসলিমদের নিয়ে তুর পাহাড়ে গিয়ে আশ্রয় নেবেন। তারপর ঈসা (আ.)-এর অভিশাপে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। তাদের শবদেহের দুর্গন্ধে সর্বদিক ভরে উঠবে। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা এক জাতীয় পাখি প্রেরণ করবেন; যারা তাদের লাশগুলো তুলে সমুদ্রে নিক্ষেপ করবে। তারপর প্রবল বৃষ্টি বর্ষন করবেন, যাতে সারা পৃথিবী পরিষ্কার হয়ে যাবে। (তাফসিরে আহসানুল বায়ান)