উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সীমান্তবর্তী ৫টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
প্রবল স্রোতে উপজেলার প্রায় ১২ কিলোমিটার কাঁচা ও পাকা গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে চলে গেছে। নদীভাঙনে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের অর্ধাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল ৩টায় কলমাকান্দা পয়েন্টে উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগের দিন একই সময়ে নদীটির পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করেছিল।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার রাতে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল নামার পর উপজেলার সীমান্তসংলগ্ন ৫টি ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। এতে ঘরবাড়ি, পুকুর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শাকসবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে।
খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক বলেন, ‘গজারমারি-খারনৈ সড়কের শ্রীপুর এলাকায় প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার অংশের কয়েকটি স্থানে নদীভাঙন শুরু হয়েছে।
নদীর পানি আরো বাড়লে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে নদী তীরবর্তী গজারমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আধাপাকা ভবনের অর্ধেক অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। সোমবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কোমরসমান পানি ছিল।’
এলজিইডির কলমাকান্দা উপজেলা প্রকৌশলী মমিনুল ইসলাম জানান, পাহাড়ি ঢলে উপজেলার প্রায় ১২ কিলোমিটার কাঁচা ও পাকা গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে।
পাউবোর নেত্রকোনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন জানান, উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর থাকলেও জেলার সোমেশ্বরী, কংস, মগড়া ও ধনু নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত আটপাড়া পয়েন্টে মগড়া নদীর পানি বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। একই সময়ে পূর্বধলার জারিয়া পয়েন্টে কংস নদী, খালিয়াজুড়ির ধনু নদী এবং দুর্গাপুর ও সোমেশ্বরী পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো পরিবারের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ত্রাণসামগ্রী ও জরুরি সহায়তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।