মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনজুড়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৬ জনে। এর আগে ১০ জনের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়েছিল।নিহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে এটি রাশিয়ার সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে।কর্মকর্তাদের মতে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ডনিপ্রো শহরে একটি আবাসিক ভবনে হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া এক নারী এবং আট বছর বয়সী এক শিশুসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী কিয়েভেও রুশ হামলায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বেসামরিক অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন।অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলা ছিল ইউক্রেনের আগের কিছু আক্রমণের জবাব।তাদের দাবি, হামলার সব লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে আঘাত করা হয়েছে।গত সপ্তাহে রাশিয়া অভিযোগ করেছিল, পূর্ব ইউক্রেনের তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একটি ছাত্রাবাসে ইউক্রেনের হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছে। এরপরই মস্কো ‘পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক হামলা’ চালানোর হুঁশিয়ারি দেয়। তবে ইউক্রেন বলেছে, তারা কোনো ছাত্রাবাস নয়, একটি রুশ সামরিক ইউনিটকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।এর আগে সোমবার রাতে দেওয়া ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে। তিনি দেশবাসীকে বিমান হামলার সতর্কবার্তার প্রতি বিশেষভাবে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।মঙ্গলবার সকালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাতভর হামলায় রাশিয়া ৬৫৬টি ড্রোন এবং ৭৩টি বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে ব্যালিস্টিক, ক্রুজ এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রও ছিল।তিনি বলেন, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইউক্রেনের জরুরি ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরো প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রয়োজন। জেলেনস্কির মতে, বর্তমানে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ সীমিত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে এই সংকট বেড়েছে। এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে সরাসরি অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করেছে। ফলে ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসব অস্ত্র কিনে পরে ইউক্রেনে পাঠাচ্ছে।জেলেনস্কি বলেন, হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিয়েভ। সেখানে বহু আবাসিক ভবন এবং অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।অন্যদিকে, ডনিপ্রো শহরের একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে উদ্ধারকারীরা আট বছর বয়সী এক ছেলে ও এক নারীর মরদেহ খুঁজে পেয়েছেন। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা জানান, হামলায়  একজন শিশুও নিহত হয়েছে। জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, হামলায় ভবনটির একটি অংশ প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

কিয়েভ ও ডনিপ্রোতে হামলায় মোট ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এ ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ শহরেও রাশিয়ার হামলায় একটি শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সেখানে জ্বালানি স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়ায় একটি শিল্প স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলই এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। রাজধানী কিয়েভে মঙ্গলবার সকালে শহরের কেন্দ্র থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান সতর্ক করে বলেন, রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এদিকে মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার আহ্বান জানান।

ভোরের দিকে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ড্রোনের গুঞ্জনের মধ্যেই শহরের বিভিন্ন স্থানে হামলা আঘাত হানে। ক্লিচকো জানান, হামলায় একটি পেট্রল পাম্পের কাছে, একটি নির্মাণস্থলে এবং কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ও দুটি বাড়িতে আগুন লাগে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটও দেখা দেয়।

মে মাসে স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর থেকে রাশিয়া কিয়েভে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় তিন শিশুসহ ২৪ জন নিহত হয়। এর কয়েক দিন পর ইউক্রেন মস্কো অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালায়। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102