রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন

ইবোলায় কঙ্গো-উগান্ডায় মৃত্যু ৮০ ছাড়াল

অনলাইন ডেক্স রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

মধ্য আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। খবর সামা টিভি অনলাইনের।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ‘বুনডিবুগিও’ নামের ইবোলা ভাইরাসের একটি ধরন থেকে এ সংক্রমণ ছড়িয়েছে। যদিও পরিস্থিতি এখনো বৈশ্বিক মহামারির মানদণ্ডে পৌঁছেনি, তবে কঙ্গোর সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

রোববার (১৭ মে) স্বাস্থ্য সংস্থাটি জানায়, শনিবার পর্যন্ত কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে অন্তত ৮০টি সন্দেহজনক মৃত্যু, আটটি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত সংক্রমণ এবং ২৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে বুনিয়া, রামওয়ারা ও মঙ্গবালু স্বাস্থ্য অঞ্চল।

এদিকে, পূর্ব কঙ্গোর গুরুত্বপূর্ণ শহর গোমাতেও একটি সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, কঙ্গোতে অবস্থানরত অন্তত ছয়জন মার্কিন নাগরিক ইবোলা ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন মার্কিন নাগরিকের শরীরে উপসর্গও দেখা দিতে পারে। যদিও এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের জরুরি প্রতিক্রিয়া কেন্দ্র সক্রিয় করা হয়েছে এবং কঙ্গো ও উগান্ডায় আরও বিশেষজ্ঞ পাঠানো হবে। তবে সিডিসি কর্মকর্তারা বলেছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সংক্রমণের ঝুঁকি কম।

কঙ্গোতে থাকা মার্কিন দূতাবাস ইতুরি প্রদেশে ভ্রমণ না করার জন্য মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে। দূতাবাসের ভাষ্য, ওই অঞ্চলে জরুরি সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অত্যন্ত সীমিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এবারের প্রাদুর্ভাবটি ‘অস্বাভাবিক’ কারণ বুনডিবুগিও ধরনের ইবোলার জন্য এখনো অনুমোদিত কোনো নির্দিষ্ট টিকা বা চিকিৎসা নেই। কঙ্গোতে এর আগে হওয়া অধিকাংশ ইবোলা প্রাদুর্ভাব জাইর প্রজাতির ভাইরাসের কারণে হয়েছিল।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কিছু ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। তাই সীমান্ত এলাকায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা সক্রিয় করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উগান্ডার রাজধানী কাম্পালাতেও কঙ্গো থেকে আসা দুই ব্যক্তির শরীরে পরীক্ষাগারে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরামর্শ দিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তি ও সংস্পর্শে আসাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ থেকে বিরত রাখতে হবে। নিশ্চিত রোগীদের দ্রুত আইসোলেশনে নেওয়া এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের অন্তত ২১ দিন পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।

তবে একইসঙ্গে সংস্থাটি সীমান্ত বন্ধ বা ভ্রমণ ও বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কারণ এতে মানুষ অনানুষ্ঠানিক ও নজরদারিবিহীন পথে সীমান্ত পার হতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

আফ্রিকা সিডিসির মহাপরিচালক জিন কাসেয়া জানিয়েছেন, পরিস্থিতিকে মহাদেশীয় জননিরাপত্তা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা প্রয়োজন কি না, সে বিষয়ে কারিগরি পরামর্শ চাওয়া হয়েছে।

ইবোলা একটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। এতে আক্রান্তদের জ্বর, শরীর ব্যথা, বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরের তরল, দূষিত বস্তু কিংবা মৃতদেহের সংস্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102