যশোরের শার্শার বসতপুর পূর্বপাড়ায় পরকীয়া প্রেমিকার কাছে পাওনা টাকা আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন ইকরামুল কবির নামে এক যুবক। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
শনিবার (৯ মে) রাতে এক মাসের অধিক সময় নিখোঁজ থাকার পর প্রেমিকার শ্বশুরবাড়ির গোয়ালঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত ইকরাামুল কবির (২৫) যশোরের শার্শা উপজেলার পুটখালি ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ বসতপুর পূর্বপাড়া এলাকার আল ফারহাদ, তার স্ত্রী মুন্নী, মুন্নীর সহযোগী কাকলি আক্তার এবং মুন্নীর বাবা ফজলু মোড়লকে গ্রেফতার করে।
রোববার (১০ মে) সকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শার্শার বসতপুর পূর্বপাড়া এলাকার আল ফরহাদের স্ত্রী মুন্নীর (২২) সঙ্গে ইকরামুলের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। একমাস পাঁচদিন আগে তিনি তার প্রেমিকার কাছে পাওনা টাকা আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন।
দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকায় বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ অভিযুক্ত মুন্নীর স্বামী আল ফরহাদকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (৯ মে) পুলিশ বসতপুর গ্রামে তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে গোয়ালঘরের মেঝে খনন করে নিখোঁজ ইকরামুলের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- পরকীয়া ও পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে তাকে শ্বাসরোধ বা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, লাশ উদ্ধারের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর শত শত উৎসুক জনতা অভিযুক্তদের বাড়ির সামনে ভিড় জমায়। মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
মামলার বাদী ও নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ অভিযোগ করেন, তার ছেলে ইকরামুলকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলে অপহরণ করা হয়। এরপর পরিবারের কাছে বিভিন্ন সময় দশ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তার কোনো খোঁজ মেলেনি।
তিনি জানান, গত ৮ এপ্রিল রাতে শার্শার সেতাই এলাকায় বড় বোনের বাড়ি থেকে ইকরামুলকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। পরিবারের সদস্যরা শার্শা থানা, বেনাপোল পোর্ট থানা ও ডিবি পুলিশের কাছে অভিযোগ করলেও প্রথমদিকে কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গোয়ালঘরের মেঝে খুঁড়ে ইকরামুলের লাশ উদ্ধার করে।
শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ফরহাদ-মুন্নী, মুন্নীর বাবা ফজলু মোড়ল ও মুন্নীর ব্যবসায়ী সহযোগী কাকলি আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার সকালে গ্রেফতারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।