র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্য পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে ৬৫ লাখ টাকা ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুরে তুরাগের ১৫ নং সেক্টরের ২ নং ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। টাকা নেওয়ার পর ওই ব্যবসায়ীকে হাত ও চোখ বেঁধে পূর্বাচল এলাকায় ফেলে যাওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম সালমান মাহবুব জয়। তিনি কসমেটিক্স সামগ্রীর ব্যবসা করেন। রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার থানা এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় শনিবার মধ্যরাতে তুরাগ থানায় ডাকাতির মামলা করেছেন।পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। এদিকে,ডাকাতির সঙ্গে র্যাব-পুলিশের কয়েকজন সদস্য জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে নেতিবাচক আলোচনা চলছে। এমনকি বিস্তারিত তথ্য প্রদানেও পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অনীহা দেখা গেছে। মামলাটি অধিকতর তদন্তে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে। তবে রোববার রাত ৮ টা পর্যন্ত ডিবিতে হস্তান্তর হয়নি। তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন,ওই ব্যবসায়ী জানিয়েছেন,তার কাছ থেকে নগদ ৩২ লাখ টাকা এবং ৮ লাখ ৮৯ হাজার থাই বাথ ছিল। মূলত থাই বাথগুলো ভাঙতে গেলে টার্গেট করে ডাকাত চক্রের সদস্যরা। একপর্যায়ে তাকে মাইক্রোবাসে তুলে টাকাগুলো হাতিয়ে নেওয়ার পর পূর্বাচল এলাকায় ফেলে দেওয়া হয় । পুলিশ অপরাধীদের গ্রেফতারে ব্যাপারে কাজ করছে । মামলার এজাহারে বলা হয়,ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর কাছে একটি ব্যাগে ৩২ লাখ টাকা ও ৮ লাখ ৭৯ হাজার থাই বাথ ছিল। থাই বাথগুলো ভাঙ্গাতে পল্টন,মতিঝিলসহ বেশ কয়েকটি এলাকার এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ঠিকমতো দাম না পেয়ে মেট্রোরেলে উত্তরা যান। উত্তরা স্টেশনে নামলে “জামান মানি একচেন্জ” নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে ফোন করে কোথায় আছেন জানতে চাইলে তিনি ঠিকানা জানান। পরে অপরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে অটোরিকশায় করে আজমপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
পথিমধ্যে দুই নং ব্রিজের কাছে খেলার মাঠের সামনে পৌছালে র্যাবের পোশাক পরিহিত ৭ জন লোক রিকশা থামায়। তারা নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর ব্যাগ তল্লাশি করতে চায়। এ সময় তিনি ভয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে ধরে ফেলে তারা। তাকে “আওয়ামী লীগের দোসর” আখ্যা দিয়ে মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে জোর করে একটি সাদা রঙের নোয়া মাইক্রোবাসে তুলে এলোপাতাড়ি ভাবে কিল-ঘুসি মারতে শুরু করে। ডাকাতরা তার দুই হাতে হ্যান্ডকাফ,চোখে কালো কাপড় ও মুখে কাপড় ঢুকিয়ে দেয়,যেন শব্দ করতে না পারেন। টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে নগদ টাকা,থাই বাথ ও একটি আইফোন নিয়ে নেয় তারা।এজাহারে আরো বলা হয়,পরে ডাকাত দল ওই ব্যবসায়ীকে ৯ নং সেক্টরের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে হ্যান্ডকাফ খুলে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে স্থানীয় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে চোখের বাঁধন খুলে দিলে তিনি পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রথমে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল ও পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) এস এন মো.নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন,পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে । ইতিমধ্যে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত বলা যাবে না। ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ বলেন,মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্থান্তর করা হবে। পরে ডিবির যুগ্ন কমিশনার (গোয়েন্দা উত্তর)মোহাম্মদ রবিউল হোসেন ভুঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,ঘটনার পর থেকে ডিবি ছায়া তদন্ত করছে। তবে এখনই বলার মত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। জানতে চাইলে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন,বিষয়টি নিয়ে র্যাবের সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়ন গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। জড়িতদের চিহ্নিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
সূত্র: যুগান্তর