চায়না ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং অ্যাসোসিয়েশন (সিডিপিএ) এর ২০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আজ (রবিবার) বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এর নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছে।
চীনা প্রতিনিধি দলটিতে চায়না ন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল কাউন্সিল (CNTAC) এবং চায়না ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং অ্যাসোসিয়েশনের (CDPA) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশটির শীর্ষস্থানীয় ডাইং, প্রিন্টিং, ফিনিশিং ও কেমিক্যাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ারম্যান এবং মহাব্যবস্থাপকগণ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
উত্তরাস্থ বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন বিজিএমইএ এর সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান, পরিচালক রুমানা রশীদ এবং পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল।
বৈঠকে সহযোগিতা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো, বিশেষ করে বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে প্রযুক্তির আধুনিকায়নে চীনের সহযোগিতা ও সরাসরি বিনিয়োগের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় ।
সভায় বিজিএমইএ সভাপতি চীনকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ব্যবসায়িক অংশীদার এবং পোশাক শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির প্রধান উৎস হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি চীনা উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের উদীয়মান খাতসমূহ, বিশেষ করে ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ), সিনথেটিক ফাইবার এবং টেকনিক্যাল টেক্সটাইল খাতে বিনিয়োগের জোরালো আহবান জানান। সভাপতি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের ওভেন কাপড়ের বার্ষিক ৮-৯ বিলিয়ন ডলারের বিশাল আমদানির বাজার চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি অনন্য সুযোগ।
তিনি আরও বলেন, চীনা উদ্যোক্তারা এসব সম্ভাবনাময় খাতে এককভাবে অথবা যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগ করতে পারেন, যেখানে বিজিএমইএ এর পক্ষ থেকে সব ধরনের কৌশলগত সহযোগিতা প্রদান করা হবে। আরও উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের ইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কারনে চীনা ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে এককভাবে অথবা যৌথভাবে বিনিয়োগ করে জাপানে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাবেন।
বিজিএমইএ সভাপতি দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। বিশেষ করে ডিজিটাল প্রিন্টিং ও সিনথেটিক ফ্যাব্রিকের মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা বাড়াতে তিনি নিয়মিত টেকনিক্যাল ট্রেনিং ও নলেজ শেয়ারিং উদ্যোগের আহবান জানান। এছাড়াও, পরিবেশবান্ধব ডাইং কারখানা স্থাপনে চীনের অগ্রগামী অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে আরও টেকসই করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে সরাসরি ব্যবসায়িক সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রোফাইল ও উৎপাদন সক্ষমতা সংক্রান্ত তথ্যাদি বিজিএমইএ’কে দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে করে বিজিএমইএ তথ্যগুলো সদস্যদের মাঝে প্রচার করতে পারে।
উল্লেখ্য যে ঢাকা সফররত চীনা প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশে ডাইং, প্রিন্টিং কারখানা পরিদর্শন করেছে। বিজিএমইএ থেকে এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
পরিশেষে, উভয় পক্ষ দুই দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও পারস্পরিক সমৃদ্ধি অর্জনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।