রোগীর বিল কমাতে রাজনৈতিক মহলের তদবির, পুলিশ-সাংবাদিক পরিচয়ে অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা, অন্যায়ভাবে হামলা-ভাংচুরসহ নানা অভিযোগ জানিয়েছেন রাজধানী উত্তরায় পরিচালিত হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা।
সম্প্রতি, উত্তরার একটি রেস্টুন্টে প্রাইভেট হাসপাতাল ওনার্স এসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতমিনিময় সভায় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম এসব অভিযোগ তুলে ধরেছেন। এ সময় ঢাকা-১৮ আসনের এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ্ জহিরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল পরিচালনা করতে আমাদের বর্তমানে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। নানা দিক থেকে আমাদের ওপর চাপ আসে যা মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রথমত, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিরা রোগীদের জন্য সুপারিশ করেন এবং বিল কমিয়ে দেওয়ার জন্য তাগিদ দেন। তাদের অনুরোধ আমাদের শুনতে হয়। কিন্তু এতে আমরা চরম বিপদে পড়ে যাই।
তার অভিযোগ, একজন রোগীর যে বিল আসে, তার মধ্যে ৪০% থেকে ৬০% টাকাই ডাক্তাররা নিয়ে যান। বাকি টাকা থেকে আমাদের কর্মচারীদের বেতন এবং হাসপাতালের আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে হয়। কোনো ডাক্তারকে যদি আমরা অনুরোধ করি যে এই রোগীর বিলটি একটু কমিয়ে নিন, তারা সাধারণত তা শোনেন না। তারা বলেন, কমিয়ে রাখা সম্ভব না। এ রকম হলে তারা হসপিটালে থাকবেন না বলে অন্য জায়গায় চলে যাওয়ার কথা সরাসরি বলে দেন।
শাহ্ জহিরুল ইসলামের আরো অভিযোগ, “অনেক সময় বিভিন্ন ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিল কমিয়ে নিতে চান। তাছাড়া যখনই কোনো মৃত্যু বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, সাংবাদিকরা আমাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য না নিয়েই একপাক্ষিক নিউজ করেন। আমাদের অবস্থান বা সত্যতা জানার চেষ্টা না করে সংবাদ পরিবেশনের দাবি করেন তিনি।
তবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তার এমন এমন অভিযোগের বিষয়ে অনুষ্ঠানের উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে জবাব দিয়েছেন উপস্থিত সাংবাদিকরাও। এ বিষয়ে দৈনিক ইনকিলাবের উত্তরা প্রতিনিধি মাসুদ পারভেজ হাসপাতাল মালিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন,
কোনো হাসপাতালে দূর্ঘটনা ঘটার পর আপনাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। ম্যানেজারসহ দায়িত্বশীলরা সবাই পালিয়ে থাকে। এমনকি অনেক সময় আমরা ফোনে যোগাযোগ করেও আপনাদের পাই না। তখন আমরা রোগীর স্বজনদের অভিযোগ শুনে নিউজ করে থাকি।
এদিকে, মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতকে নিরাপদ ও জনবান্ধব রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। বেসরকারি হাসপাতালগুলো মানুষের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তবে এই খাতের নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে।
এমপি বলেন, আমার ভাগিনা, ভাই কিংবা মামা পরিচয়ে কেউ যদি কোনো অন্যায় করে তবে তাকে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেবেন না। রাজনৈতিক জীবনে আমার কোনো আত্মীয় নেই। আমার নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি অন্যায় বা চাঁদাবাজি করার দুঃসাহস দেখায়, তবে তাকে বেঁধে রেখে সরাসরি আমাকে ফোন দিবেন। অপরাধী যেই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন সভাপতি ডাঃ মো. আরিফুর রহমান ভূইয়া, সহ-সভাপতি ডাঃ ইমরান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান আকন্দ ও নির্মল পাল, দপ্তর সম্পাদক ফজলুর রহমান প্রমুখ।
আয়োজনে উত্তরার আইচি হসপিটাল, এস্টার হসপিটাল, মেরিন হসপিটালসহ বিভিন্ন হাসপাতালের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।