টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বস্তাবন্দি অর্ধগলিত নারী ও নবজাতকের লাশ উদ্ধারের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো তাদের পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘অন্তঃস্বত্ত্বা ওই নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে’- এমন দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। পরিচয় শনাক্ত ও ঘটনার রহস্য উদঘাটনে একাধিক টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছে তারা।
মরদেহ উদ্ধারের সময় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ‘ধর্ষণের পর হত্যা এবং গর্ভপাত’ সংক্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে দিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল সন্ধ্যায় মির্জাপুর উপজেলার গুনটিয়া গ্রামের লৌহজং নদীর তীর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটিচাপা অবস্থায় নবজাতকসহ বস্তাবন্দি অর্ধগলিত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান মিয়া জানান, একটি শূকরের পাল নদীর তীরের মাটিচাপা স্থানটি আলগা করে দিলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা সেখানে গিয়ে মাথার চুল ও কাপড় দেখতে পান। এরপর পুলিশে খবর দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ মির্জাপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজমা বেগম বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।
মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পরিচয় শনাক্ত ও প্রকৃত ঘটনা উন্মোচন করতে পারেনি পুলিশ৷তবে অধিকতর তদন্ত চলছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে নারী ও নবজাতকের পরিচয় শনাক্ত করে এ চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলে জানান ওসি।