বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
মোশাররফ করিমের ওপর ‘হামলা’, অস্বীকার করলেন অভিনেতা ইসরায়েল না পারলে হিজবুল্লাহকে সামলাবে সিরিয়া: ট্রাম্প বিশ্বকাপ ফুটবলে কোন দলের সমর্থক, জানালেন প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু অভিযোজনে নারীর নেতৃত্বের স্বীকৃতি চাইলেন বক্তারা ওয়েব সিরিজের নাম ‘ব্রাজেন্টিনা’, অভিনয় করলেন জামাল ভূঁইয়া যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে একখণ্ড ইরান, রাতভর যেমন ছিল তেহরান আগামীতে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হবে —-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী ০৭ হাজার ৩ কোটি টাকার ০৫ (পাঁচ) প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে সাংবাদিকরা সবসময় পাশে ছিলেন: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে গোল করে ‘রাজনৈতিক’ উদযাপন ইরানের

সংকুচিত আয়ে টিকে থাকার লড়াই, পিছু হটছে স্বপ্ন

অনলাইন ডেক্স রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

খরচের ভারে অনেকটা ‘চিড়েচ্যাপ্টা’ মধ্যবিত্ত। সংকুচিত আয় আর লাগামহীন ব্যয়ের প্রভাব কৃষি থেকে শহরের শিল্প, সেবা আর সামাজিক খাতে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মজুরি বৈষম্য, বেকারত্ব আর মূল্যস্ফীতি আরও উসকে দিতে পারে খরচের খাতাকে। তাই সরকারের থাকতে হবে শ্রেণিভিত্তিক সক্ষমতার সঠিক পরিসংখ্যান ও পরিকল্পনা।

ন্যূনতম ডিজেলের অভাব আর কাঠফাটা রোদে পুড়ে যাওয়া সবুজ ক্ষেতের সঙ্গে পুড়ছে কৃষকদের ভাগ্য। শহর আর প্রান্তিকের মানুষের জন্য পণ্যের দাম সমান হারে বাড়া দামে কৃষকদের অসহায়ত্ব আরও তীব্র হয়।

গ্যাসের সমস্যা নিত্য। ফলে ওই পথে না হেঁটে মাটির চুলাই ভরসা অনেকের। এলপিজি আর ভোজ্য তেলের দামে চিড়েচ্যাপ্টা ভোক্তার সংকুচিত সক্ষমতা। দোকানির উচ্চ ব্যয়ের সামঞ্জস্য আনতে ধোঁয়া ওঠা গরম পরোটার আকার ছোট হয়ে আসে চারপাশ থেকে। কাঁচাবাজারের মিষ্টি কুমড়াও এখন আর মিষ্টি নয়। দোকানে মাছ থেকে প্রিয় হয়ে উঠেছে কাটা মাথা আর মাছের অংশ বিশেষ।
 
এত গেল খরচের সরাসরি প্রভাব। গত কয়েক বছর ধরেই মধ্যবিত্তরা বাড়ি পাল্টে, শহর পাল্টে খরচের খাতা সহনীয় করতে চান।
 
জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে সেবা ও আমদানি পণ্যের দাম আবারও বাড়বে- এমন কড়া নাড়ছে ঘরের দুয়ারে। ২০২৪ সালে ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বেকার হয়েছেন। ২০২৫ সালে শিল্প মালিকদের তথ্যে প্রথম ৬ মাসে বেকার ২১ লাখ মানুষ।
 
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. শহীদুল জাহীদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সেখানে মজুরির খরচ বেড়ে যাবে। আর সেটা হলে অনেক প্রবাসী বেকার হবেন। তারা দেশে ফিরবেন। তাহলে গত এক বা দেড় বছর আগে যে অবস্থা ছিল, এর চেয়ে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হতে পারে।

সরকারি সংজ্ঞায়, খাদ্য ও খাদ্য বহির্ভূত পণ্য বা সেবা ক্রয়ে প্রতি মাসে গড়ে ৩ হাজার ৮২২ টাকা খরচের সামর্থ্য যদি না থাকে, তাহলে তারা দরিদ্রসীমার নিচে চলে যাবেন, যা বর্তমান বাজারে এক মাসের গ্যাস বা এলপিজির দাম, পানি বা বিদ্যুৎ বিল বা ভোজ্য তেলের যোগফলের কম।
 
২০২৪-২৫ সালে প্রকাশিত পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে, গত কয়েক বছরে মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রায় আয়ের ৪২ শতাংশ এখন খরচ করতে হচ্ছে শুধু খাদ্যসামগ্রীতে। বাকি ৫৮ শতাংশ দিয়ে মেটাতে হয় শিক্ষা, পরিবহন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও পরিসেবা ব্যয়।
 
সংস্থাটির হিসাবে, একটি পরিবারের খরচ ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ধরা হয়। একই সময়ের সার্ভিস রুলস হিসাবে ৬ সদস্যের পরিবারে ন্যূনতম খরচে প্রয়োজন অন্তত ৫৯ হাজার টাকা। সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও কৃষকের আয় বা বেতন স্কেল এক না হলেও একই বাজারে সমান দৌড় প্রতিযোগিতার রেসে নামতে হয় দরিদ্র, অতিদরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তদের।
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ‘যারা এরইমধ্যে গরিব, তারা দরিদ্রসীমা থেকে আরও নিচে চলে যাবে।’
 
২০২২ সালে দারিদ্র্য হ্রাসের হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে আসলেও ২০২৫ সালে তা আবারও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ২ শতাংশ। ফলে সংকুচিত আয়ের সঙ্গে সব শিশুদের স্কুলে ধরে রাখা যায়নি। এমনকি পরিবারগুলোর খাদ্য পুষ্টিতে আপস করায় দেশের সার্বিক উৎপাদশীলতাকেও আঘাত করবে ভবিষ্যতে। 

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102