বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
হামে শিশু মৃত্যুর দায়ে ড. ইউনূসসহ অন্যদের বিচার দাবি দুর্গাপুরে রেল আসার আনন্দের বন্যা – বাস্তবায়ন ডেপুটি স্পীকার আড়াই বছরের শিশুসহ মা কারাগারে, ফটকে দাঁড়িয়ে অবুঝ দুই সন্তান মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের বিক্ষোভ পালানোর সময় গ্রিলে আটকে গেল চোর, ভিডিও ভাইরাল সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজিই বাজারে অস্থিরতা তৈরি করে: বিরোধীদলীয় নেতা ১০০ টাকার বেশি ময়লার বিল নিলেই লাইসেন্স বাতিল পরিবারের ভালোবাসা থেকে ‘বঞ্চিত’ হওয়ার ক্ষোভেই মাকে হত্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সাথে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের বৈঠক তুরাগে গৃহবধূর রহস্যজনক ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

‘আমি এক গর্বিত বিপ্লবীর মা’ আম্মারের মায়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস ভাইরাল

অনলাইন ডেক্স রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারের মা রোকেয়া খানম একটি আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে তিনি এই স্ট্যাটাসটি দেন। স্ট্যাটাসটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।

স্ট্যাটাসে রোকেয়া খানম নিজেকে ‘এক গর্বিত বিপ্লবীর মা’ বলে পরিচয় দেন। তিনি লেখেন, ‘সালাহউদ্দিনকে নিয়ে ১৫ জুলাই পর্যন্ত আমার অনেক বেশি চিন্তা হতো। যেদিন আবু সাঈদ শাহাদাত বরণ করলেন, সেদিনই আমি আমার একমাত্র ছেলেকে দেশের মানুষের জন্য দিয়ে দিয়েছি।’

তিনি জানান, আম্মারকে কেউ ঘৃণা করলে সেটা দলের জন্য ঘৃণা করে। আর কেউ তাকে ভালোবাসলে সেটা দেশের জন্য ভালোবাসে।

আওয়ামী লীগ আমলে তার পরিবারের ওপর যে নির্যাতন হয়েছিল, সেটার কথাও তিনি বলেন। তিনি লেখেন, ‘আমি আমার জীবনে অনেক কিছু দেখেছি। আমার আপন ভাইকে বিএনপি করার কারণে উল্টো করে ঝুলিয়ে পেটাতে দেখেছি। আমার স্বামীকে জামায়াত সমর্থনের কারণে কোমরে দড়ি বেঁধে টানতে টানতে নিয়ে যেতে দেখেছি, যে নির্যাতনের জেরস্বরূপ তিনি আর সুস্থ হতে পারেননি।’

এই ভয়ের মধ্যে ২০১৮ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি ছেলে সালাহউদ্দিনকে চুপিসারে দূরে পাঠিয়ে দেন। অনেকে আম্মারকে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন যে ২০২৪-এর আগে কোথায় ছিলেন তিনি। এই বিষয়ে রোকেয়া খানম বলেন, ‘তার কৈশোর কেড়ে নিয়েছে ফ্যাসিস্ট লীগ। এই ইস্যুগুলো দেখতে দেখতে তার জীবনে কারো জন্য, এমনকি নিজের জন্যও কোনো বিন্দুপরিমাণ আবেগ নেই। শাহবাগে তার রক্তাক্ত ছবিটা দেখেও বোঝেননি আপনারা?’

ছেলেকে থামতে বলা আর হয় না জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘থামতে আর বলি না — চলতে থাকুক। এখন শুধু নামাজান্তে দোয়া করি, আল্লাহ যখন তাকে নিয়ে যাবেন তখন যেন আমি তাকে হাসিমুখে বিদায় দিতে পারি।’

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব আম্মারের পরিবার নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে রোকেয়া খানম বলেন, ‘১৬ জুলাই ২০২৪ থেকে ৪ঠা আগস্ট পর্যন্ত আমাকে আর তার বাবাকে ঘরবন্দী করে রেখেছিল লীগ আর ডিবি। তার বাবার ওষুধ পর্যন্ত নিতে দেয়নি। তাদের একটাই কথা ছিল — সালাহউদ্দিনকে যেন ফিরিয়ে নিয়ে আসি, না হলে আমার স্বামীকে মেরে ফেলবে। আমি সেদিনও তাকে থামতে বলতে পারিনি।’

অনেকে জিডি করার পরামর্শ দিয়েছেন জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘প্রয়োজন হলে করব, তবে নিরাপত্তার জন্য নয়; জাহেলি যুগের মতো ইতিহাসের সাক্ষী থাকার জন্য। আমার পরিবারের কোনোদিন কিছু হলে যেন এই জিডির কপি দেখে বাংলাদেশের বিপ্লবী সন্তানদের মা-বাবারা সাহস পান।’

আম্মারের নিজের আপন মামা এখন তার বিরুদ্ধে মিছিলে নেতৃত্ব দেন। এটা উল্লেখ করে রোকেয়া খানম বলেন, ‘বললাম না — বিএনপি করার কারণে আমার আপন ভাইকে উল্টো করে ঝুলিয়ে পেটানো হয়েছিল; সেই ভাই এখন সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে মিছিলে নেতৃত্ব দেয়। এটা দেখে আমি বুঝে গেছি, যেই ক্ষমতায় আসুক সালাহউদ্দিন তাদের ক্ষমতাকে প্রশ্ন করবে, আর যত বড় রক্তের মানুষ হোক না কেন, তখন তার বিরুদ্ধে কথা বলবে।’

শেষে রোকেয়া খানম সবাইকে দল ও মতের বাইরে গিয়ে ভালো রাজনীতি করার আহ্বান জানান। তিনি আশা করেন, শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ একদিন সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী দেশ হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102