বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৪ অপরাহ্ন

তেল আবিবের আকাশে হাজার হাজার কাক

অনলাইন ডেক্স রির্পোট
  • আপডেট টাইম: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬
তেল আবিবের আকাশে কাকের বিশাল ঝাঁকের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। গত মঙ্গলবার শহরের আকাশ কাকের ঝাঁকে ঢাকা পড়েছিল। অনেকেই এটিকে ‘সর্বনাশের পূর্বাভাস’ হিসেবে দেখেছেন। হাজার হাজার কাককে উঁচু ভবন ও ব্যস্ত রাস্তার আশেপাশে চক্কর দিতে দেখা যায়।ভিডিওটি দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। কিছু মানুষ এই দৃশ্যকে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত করেছেন এবং আশঙ্কা করছেন, এটি আসন্ন ‘বিপর্যয়ের ইঙ্গিত’ দিচ্ছে।এক্সের ব্যবহারকারীরা অনেকেই এটিকে ‘সর্বনাশের পূর্বাভাস’ মনে করছেন। কেউ কেউ এটিকে বাইবেলের প্রকাশিত বাক্য ১৯:১৭-এর সঙ্গে সম্পর্কিত করেছেন, যেখানে স্বর্গদূত সূর্যের কাছে দাঁড়িয়ে উড়ন্ত পাখিদের ডাকছেন, যেন তারা ‘ঈশ্বরের মহাভোজ’-এ যোগ দেয়।মঙ্গলবার ঘূর্ণায়মান কাকের ঝাঁক ইসরায়েলের আকাশে কালো মেঘের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল, যা দেখে স্থানীয়রা অবাক হয়েছেন। তবে পাখি গবেষকরা বলেছেন, এটি কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়। এ এলাকা বিশ্বের ব্যস্ততম পাখি চলাচলের পথ বরাবর হওয়ায়, একটি স্বাভাবিক ঋতুভিত্তিক পরিযান। বিশেষজ্ঞদের মতে, বসন্তকালে প্রতি বছর প্রায় ৫০ কোটি পাখি ইসরায়েলের ওপর দিয়ে উড়ে যায়।এই সময় হুডেড কাকেরা প্রায়ই শহরাঞ্চলে জড়ো হয়।মার্চ মাসে তেল আবিবের মতো শহরাঞ্চলে হাজার হাজার কাকের দৃশ্য দেখা যায়, যা সাধারণত ঋতুভিত্তিক আচরণ বা পরিবেশগত কারণে ঘটে। বিজ্ঞানীরা এটিকে স্বাভাবিক ঘটনা বললেও অনেক সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী এটিকে অশুভ লক্ষণ মনে করছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘সভ্যতার দিক থেকে এটি সবচেয়ে খারাপ লক্ষণ।’অনেকে টাওয়ার অফ লন্ডনে থাকা বিখ্যাত দাঁড়কাকগুলোর কথাও উল্লেখ করেছেন।পুরনো বিশ্বাস অনুযায়ী, টাওয়ার অফ লন্ডনের দাঁড়কাকরা যদি দুর্গ ছেড়ে যায়, তবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য পতিত হবে। তাই ঐতিহ্য রক্ষার জন্য অন্তত ছয়টি দাঁড়কাক একজন র‍্যাভেনমাস্টারের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। এই দীর্ঘদিনের বিশ্বাসের কারণে অনেকে পাখির অস্বাভাবিক আচরণকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখেন।ইংল্যান্ডে এটিকে এখনও গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয় এবং রোমানরা এ ধরনের ঘটনায় গোটা যুদ্ধ থামিয়ে দিত। প্রাচীন রোমে ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা পুরোহিতরা আকাশের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতেন এবং পাখির ওড়ার ধরণ ও ডাককে দেবতাদের বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করতেন। এমন ঘটনা যুদ্ধ, নেতৃত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সম্পর্কিত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারত। পাখিদের বড় বা অস্বাভাবিক সমাবেশকে আসন্ন বিপদের অশুভ সংকেত হিসেবে দেখা হতো।এদিকে ইরান যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মতে, ইরানে ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলায় ১,২০০-এর বেশি মানুষ মারা গেছে। লেবাননে অন্তত এক হাজার এবং ইসরায়েলে ১৭ জন নিহত হয়েছে। এই সংঘাতে ১৩ জন মার্কিন সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102