বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:

জ্বালানি তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছার শঙ্কা কতটা বাস্তবিক

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। ইরানের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছানোর যে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা আর নিছক বাগাড়ম্বর মনে হচ্ছে না। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সংঘাত শেষ হলে দাম দ্রুত কমে আসবে। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন কথা বলছে।সরবরাহ সংকট ও বাজারের অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ জ্বালানি বিপর্যয়ের সংকেত দিচ্ছে।বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের আশপাশে দেখা গেলেও বাজারে পরিস্থিতি আরো বেশি উদ্বেগজনক। ওমানি জ্বালানি তেলের দাম এখন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্টের চেয়ে রেকর্ড ৫১ ডলার বেশি প্রিমিয়ামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে মে মাসে সরবরাহের জন্য এ তেলের প্রকৃত দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৫০ ডলার।একইভাবে দুবাইয়ের জ্বালানি তেলের ক্যাশ প্রিমিয়ামও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এ পার্থক্য প্রমাণ করে, বাজারে জ্বালানি তেলের যে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, তা সাধারণ পরিসংখ্যানের চেয়েও অনেক বেশি।ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়ার জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ার যে ভয় ছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়ে অন্তত তিনগুণ বেশি ভয়াবহ বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। বিনিয়োগ ব্যাংক মরগান স্ট্যানলির তথ্যানুযায়ী, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল আটকা পড়ে আছে।যা বিশ্বের মোট সরবরাহের পাঁচ ভাগের এক ভাগ। ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফুজিরাহ বন্দরে ইরানের বারবার হামলার কারণে বিকল্প পথে জ্বালানি তেল পাঠানোর চেষ্টাও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।মধ্যপ্রাচ্যের এ যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে এশিয়ায়। এ অঞ্চলের দেশগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের প্রায় ৬০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বিশ্বের বৃহত্তম পরিশোধনাগার চীনের সিনোপেক জ্বালানি তেল পরিশোধন ১০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।পরিস্থিতি সামাল দিতে চীন ও থাইল্যান্ড এরই মধ্যে পরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে। চলমান এ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে উড়োজাহাজ খাতেও। এশিয়ায় জেট ফুয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার এবং ইউরোপে ১৯০ ডলার ছাড়িয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজ চলাচল স্থবির হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) পক্ষ থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল জরুরি মজুদ ছাড়ার ঘোষণা প্রাথমিকভাবে বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিলেও তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী খুলে দিলেও বন্ধ হওয়া উৎপাদন পুনরায় স্বাভাবিক করতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্রুত দাম কমার আশাবাদের চেয়ে ইরানের ২০০ ডলারের সতর্কবার্তা বর্তমানে অবাস্তব নয় বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102