মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
নামাজে উৎসাহিত করতে ৩১৭ শিশুকে সাইকেল উপহার ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ছুটির দিনে অফিসে প্রধানমন্ত্রী, ‘কৃষক কার্ড’ চালুর অগ্রগতি নিয়ে সভা কৃষকের মুখে হাসি না ফুটলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় : প্রধানমন্ত্রী যেভাবে অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন মোজতবা খামেনি, জানাল দ্য টেলিগ্রাফ সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদের সম্ভাব্য তারিখ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনার দাবি জানিয়েছে বিরোধী দল : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আরো বন্ধুত্ব চান জামায়াত আমির জাতি গঠনে প্রয়োজন মেধাবী ও চরিত্রবান তরুণ প্রজন্ম : জামায়াত আমির ঈদের ছুটিতে মেট্রো রেল চলাচলের সূচি প্রকাশ অপরিচিত ব্যক্তির আনাগোনায় সতর্ক থাকার আহ্বান ডিএমপি কমিশনারের

মশার উপদ্রবে নাজেহাল পৌরবাসী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর এলাকায় মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ সেখানকার বাসিন্দারা। পৌর এলাকার বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও নাগরিকরা ন্যূনতম সেবা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ তাদের।

পৌর এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শহরের পশ্চিমপাড়া, বণিকপাড়া, ভোগপাড়া, পূর্বপাড়াসহ পৌর এলাকার বাসিন্দাদের এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা মশার উপদ্রব। রাতে তো বটেই, দিনের বেলায়ও মশারি টানিয়ে রাখতে হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ শিশুদের নিয়ে। মশাবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে অনেকেই। সরকার যথাযথ উদ্যোগ নিলেও মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে মানুষ এর সুফল পাচ্ছে না। তবে কাগজে-কলমে ঠিকই কাজ দেখানো হচ্ছে।
বাস্তবে চিত্র উল্টো। 

বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারের সংশ্লিষ্টদের স্বচ্ছ তদারকির অভাবে মশা নিধনের কার্যক্রম থমকে রয়েছে। দ্রুত পৌরসভার যথাযথ বরাদ্দের স্বচ্ছ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে মশা নিধনের কাজ চালুর দাবি জানান তারা।

সরেজমিনে পৌরসভার কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়কে নেই বাতি।

সন্ধ্যার পর অনেক  সড়কে ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনেক স্থানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকেজো হয়ে মশার বিস্তার বাড়ছে। বাজারের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকে ময়লা-আবর্জনা। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা চললেও সংশ্লিষ্টদের তেমন উদ্যোগ দেখা যায় না। মশা নিধনে বরাদ্দের টাকা কত এবং কীভাবে খরচ হয় সেটিও পৌরবাসীর অজানা।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১ মার্চ পৌরসভা থেকে মশা নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে কার্যক্রম। দুই সপ্তাহ পার হলেও এর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিবছর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে মশা নিধনের জন্য দুই থেকে তিনবার বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এসব বরাদ্দের কার্যক্রম বাস্তবে তেমন দেখা যায় না। চলতি অর্থবছরেও মশা নিধনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে অনেক আগে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তা এখনো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি। বিগত বরাদ্দের কিছু অবশিষ্ট দিয়ে কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু না করে মশা নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করাও রহস্যজনক বলে মনে করছেন অনেকেই।পৌর এলাকার চরিয়াকোনা নিবাসী কাশেস মিয়া বলেন, আমরা নিয়মিত কর দিই, তার ওপর সরকারি বরাদ্দও আসে। কিন্তু বরাদ্দের টাকা কোথায় এবং কীভাবে খরচ হয়- আমরা জানি না। নাগরিক সুবিধাও ঠিকমতো পাই না। সম্প্রতি মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখলাম মশা নিধন কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে এই পৌরসভার কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। দ্রুত মশা নিধন কার্যক্রম চালু করার দাবি জানাই।”পৌর এলাকার পশ্চিমপাড়া মহল্লার বাসিন্দা মোস্তাকুর রহমান গোলাপ বলেন, আমাদের মহল্লায় মশার উপদ্রব বেশি। ১০-১২ বছরের মধ্যে মশা নিধনের কার্যক্রম চোখে পড়েনি। সরকারের নিয়ম মেনে পৌর কর পরিশোধ করি, কিন্তু নাগরিক সেবা কম পাচ্ছি।”পৌর এলাকার সাবেক এক কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ একজন সহকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেন, বিগত সময় আমাদের ওয়ার্ডে আট লিটার ওষুধ বরাদ্দ থাকলেও দেওয়া হয়েছে মাত্র দুই  লিটার। লোক দেখানো কার্যক্রমেই তড়িঘড়ি শেষ করা হয় মশা নিধনের কাজ। তাছাড়া অনেক ফগার মেশিনে ওষুধের পরিবর্তে বেশি পানি ছিটিয়ে মানুষকে অর্থের বিষয়টি ফাঁকি দেওয়া হয়।”প্রতিবছর কী পরিমাণ বরাদ্দ পাওয়া যায়, জানতে চাইলে কটিয়াদী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মহিউদ্দিন পৌর প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া বরাদ্দের পরিমাণ জানাতে অস্বীকৃতি জানান। বরাদ্দ পাওয়ার পরও কার্যক্রমে ধীরগতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নানা ধরনের টালবাহানা করেন।কবে নাগাদ কার্যক্রম শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, `অন্তত আরো মাসখানেক সময় লাগবে।’এ ব্যাপারে কটিয়াদী পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা বলেন, যেহেতু মশার উপদ্রব বেশি, তাই পৌর বাজেট থেকে সামান্য বরাদ্দ নিয়ে দ্রুত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বাজেট বিষয়ে তথ্য লুকোচুরির কিছুই নেই। এটি অবশ্যই পরিষ্কার করা হবে। তাছাড়া স্থানীয় সরকারের বরাদ্দ অর্থ দিয়ে মশা নিধনের কার্যক্রম যত দ্রুত করা যায়, সে চেষ্টা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102