২. মিসকিন : যার মালিকানায় কোনো ধরনের সম্পদ নেই; একেবারেই নিঃস্ব ও অসহায়।
৩. আমিল : জাকাত সংগ্রহকারী বা ইসলামী রাষ্ট্রের বাইতুল মাল কর্তৃক জাকাত সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মকর্তারা। তাদের সংগৃহীত জাকাত থেকে বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়।তবে বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জাকাত সংগ্রহকারীদের জাকাত থেকে পারিশ্রমিক দেওয়া শরিয়তসম্মত নয়।
৫. দাস মুক্তি : দাস-দাসিদের মুক্ত করার জন্য জাকাত প্রদান করা যায়। বর্তমানে এ ব্যবস্থা প্রায় বিলুপ্ত।
৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি : এমন ঋণগ্রস্ত ও অসহায় ব্যক্তি, যার ঋণ পরিশোধ করার সামর্থ্য নেই।
৭. ফি সাবিলিল্লাহ : যে মুসলমান আল্লাহর পথে নিয়োজিত। যেমন—দ্বিনের খিদমত, জিহাদ বা দ্বিনি জ্ঞান অর্জনের পথে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব আছে।
৮. মুসাফির : কোনো ব্যক্তি নিজ দেশে সম্পদশালী হলেও সফরের সময় অর্থশূন্য হয়ে পড়লে তাকে বাড়ি পৌঁছানোর পরিমাণ জাকাত দেওয়া যায়। উল্লিখিত যেকোনো একটি খাতে জাকাত প্রদান করলে জাকাত আদায় হয়ে যায়।
যাদের জাকাত দেওয়া উত্তম : নিকটাত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে যারা অভাবগ্রস্ত, তাদের জাকাত দেওয়া উত্তম। এতে জাকাতের সওয়াবের পাশাপাশি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার সওয়াবও অর্জিত হয়।
যাদের জাকাত দেওয়া যাবে না : নিজ সন্তান বা তাদের অধস্তন, মা-বাবা বা ঊর্ধ্বতন আত্মীয় এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে জাকাত দেওয়া যায় না। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বংশধররাও জাকাত গ্রহণ করতে পারেন না।
জাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে শর্ত হলো—গ্রহীতাকে সম্পদের পূর্ণ মালিকানা দিতে হবে। এ জন্য যেসব কাজে ব্যক্তিগত মালিকানা সৃষ্টি হয় না, যেমন—মসজিদ, রাস্তা, মাদরাসার স্থাপনা, কবরস্থান বা এতিমখানার ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সরাসরি জাকাতের অর্থ ব্যয় করা যায় না। তবে গরিব-এতিম ছাত্রদের জাকাত দেওয়া যায়। জাকাতের অর্থ দিয়ে অভাবী ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করার জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসার পুঁজি দেওয়া, ব্যক্তিমালিকানায় নলকূপ বা কৃষি সরঞ্জাম প্রদান করা কিংবা গৃহনির্মাণ করে তাকে মালিক বানিয়ে দেওয়া বৈধ। এ ছাড়া বিধবা ও এতিমের সহায়তা, চিকিৎসা, গরিব ছেলেমেয়ের বিবাহ এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যয়ে জাকাত প্রদান করা যায়। মূল শর্ত হলো—জাকাতের অর্থের মালিকানা অভাবী ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত করতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, জাকাত ইসলামী অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, যা সমাজে ন্যায়ভিত্তিক সম্পদ বণ্টন নিশ্চিত করে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণ সাধন করে। যথাযথভাবে জাকাত আদায় ও বণ্টনের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং মানবিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
লেখক : অধ্যাপক, আরবি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়