সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরা স্কয়ার মার্কেটে তাণ্ডব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে বিএনপি সরকার -কৃষিমন্ত্রী আজ থেকে বিমানবন্দর স্টেশনে থামবে না ঢাকাগামী ৯ ট্রেন খিলক্ষেতে ডেসকোর কাজে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তিন কর্মীর মৃত্যু ৪২ জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক নিয়োগ, জামায়াতের প্রতিবাদ সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদেই জানতে চাওয়া হবে : নাহিদ ইসলাম বিএনপি যা প্রতিশ্রুতি দেয় তা বাস্তবায়ন করে নদী দখলকারীরা জোচ্চোর ও দুষ্কৃতকারী : কৃষিমন্ত্রী শীর্ষ ১০ তারকাকে ছাড়াই বাংলাদেশে আসছে নিউজিল্যান্ড বেকহামের ২৬ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন ব্রুনো

জাকাতের বিধান, খাত ও সামাজিক তাৎপর্য

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের অন্যতম হলো জাকাত। এটি শুধু একটি আর্থিক ইবাদত নয়, বরং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। জাকাতের মাধ্যমে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয় এবং সমাজে দারিদ্র্য লাঘবে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ইসলামের দৃষ্টিতে জাকাত গরিবদের প্রতি ধনীদের অনুগ্রহ নয়, বরং এটি তাদের প্রাপ্য অধিকার।কোরআন ও সুন্নাহতে জাকাতের বিধান, এর খাত এবং প্রাপকদের স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে সমাজে একটি কল্যাণমুখী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

জাকাত গরিবের অধিকার : জাকাত ধনীদের সম্পদে গরিবদের অধিকার। এ জন্য জাকাত আদায়কারীর নিজ দায়িত্বে জাকাতের সম্পদ জাকাত গ্রহীতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া কর্তব্য। আল্লাহ বলেন, ‘এবং তাদের (ধনীদের) ধন-সম্পদে আছে অভাবী ও বঞ্চিতদের অধিকার।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ১৯)

জাকাতের খাত : পবিত্র কোরআনে আট শ্রেণির লোকদের জাকাত প্রদানের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘জাকাত হলো শুধু ফকির, মিসকিন, জাকাত উসুলের কাজে নিয়োজিত কর্মচারী এবং যাদের মনোরঞ্জন করা উদ্দেশ্য তাদের হক। আর তা দাস মুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তের ঋণ পরিশোধ এবং আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের সাহায্যেও ব্যয় করা হবে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিধান।আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৬০)আট শ্রেণির লোকদের বিবরণ নিম্নরূপ :
১. ফকির : যার মালিকানায় জাকাতের নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই, যদিও সে কর্মক্ষম বা কর্মরত হয়।

২. মিসকিন : যার মালিকানায় কোনো ধরনের সম্পদ নেই; একেবারেই নিঃস্ব ও অসহায়।

৩. আমিল : জাকাত সংগ্রহকারী বা ইসলামী রাষ্ট্রের বাইতুল মাল কর্তৃক জাকাত সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মকর্তারা। তাদের সংগৃহীত জাকাত থেকে বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়।তবে বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জাকাত সংগ্রহকারীদের জাকাত থেকে পারিশ্রমিক দেওয়া শরিয়তসম্মত নয়।

৪. মুআল্লাফাতুল কুলুব : অমুসলিমদের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা বা নতুন মুসলমানদের সহায়তার উদ্দেশ্যে জাকাত প্রদান করা। ইসলামের বিজয় ও মর্যাদা লাভের পর প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়ায় অমুসলিমদের জাকাত দেওয়ার বিধান রহিত হয়ে যায়। তবে নওমুসলিমকে পুনর্বাসনের জন্য জাকাত দেওয়া যেতে পারে।

৫. দাস মুক্তি : দাস-দাসিদের মুক্ত করার জন্য জাকাত প্রদান করা যায়। বর্তমানে এ ব্যবস্থা প্রায় বিলুপ্ত।

৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি : এমন ঋণগ্রস্ত ও অসহায় ব্যক্তি, যার ঋণ পরিশোধ করার সামর্থ্য নেই।

৭. ফি সাবিলিল্লাহ : যে মুসলমান আল্লাহর পথে নিয়োজিত। যেমন—দ্বিনের খিদমত, জিহাদ বা দ্বিনি জ্ঞান অর্জনের পথে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব আছে।

৮. মুসাফির : কোনো ব্যক্তি নিজ দেশে সম্পদশালী হলেও সফরের সময় অর্থশূন্য হয়ে পড়লে তাকে বাড়ি পৌঁছানোর পরিমাণ জাকাত দেওয়া যায়। উল্লিখিত যেকোনো একটি খাতে জাকাত প্রদান করলে জাকাত আদায় হয়ে যায়।

যাদের জাকাত দেওয়া উত্তম : নিকটাত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে যারা অভাবগ্রস্ত, তাদের জাকাত দেওয়া উত্তম। এতে জাকাতের সওয়াবের পাশাপাশি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার সওয়াবও অর্জিত হয়।

যাদের জাকাত দেওয়া যাবে না : নিজ সন্তান বা তাদের অধস্তন, মা-বাবা বা ঊর্ধ্বতন আত্মীয় এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে জাকাত দেওয়া যায় না। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বংশধররাও জাকাত গ্রহণ করতে পারেন না।

জাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে শর্ত হলো—গ্রহীতাকে সম্পদের পূর্ণ মালিকানা দিতে হবে। এ জন্য যেসব কাজে ব্যক্তিগত মালিকানা সৃষ্টি হয় না, যেমন—মসজিদ, রাস্তা, মাদরাসার স্থাপনা, কবরস্থান বা এতিমখানার ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সরাসরি জাকাতের অর্থ ব্যয় করা যায় না। তবে গরিব-এতিম ছাত্রদের জাকাত দেওয়া যায়। জাকাতের অর্থ দিয়ে অভাবী ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করার জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসার পুঁজি দেওয়া, ব্যক্তিমালিকানায় নলকূপ বা কৃষি সরঞ্জাম প্রদান করা কিংবা গৃহনির্মাণ করে তাকে মালিক বানিয়ে দেওয়া বৈধ। এ ছাড়া বিধবা ও এতিমের সহায়তা, চিকিৎসা, গরিব ছেলেমেয়ের বিবাহ এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যয়ে জাকাত প্রদান করা যায়। মূল শর্ত হলো—জাকাতের অর্থের মালিকানা অভাবী ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত করতে হবে।

পরিশেষে বলা যায়, জাকাত ইসলামী অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, যা সমাজে ন্যায়ভিত্তিক সম্পদ বণ্টন নিশ্চিত করে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণ সাধন করে। যথাযথভাবে জাকাত আদায় ও বণ্টনের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং মানবিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

লেখক : অধ্যাপক, আরবি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102