শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৯ অপরাহ্ন

পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
ভবনগুলো ৫০ বছরের পুরনো। খসে পড়ছে পলেস্তারা। দেয়াল ও ছাদে অসংখ্য ফাটল। সেখান থেকে ভেতরে পড়ে বৃষ্টির পানি।যেকোনো মুহূর্তে ভবনগুলো ধসে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এমন অবস্থা খুলনার কয়রা উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের থাকার জন্য ছয়টি আবাসিক ভবনের। বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়লেও ভবনগুলো পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা।উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের থাকার জন্য ছয়টি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওর জন্য পৃথক দুটি বাংলো নির্মাণ করা হয়।এ ছাড়া কর্মচারীদের থাকার জন্য রয়েছে আলাদা ডরমিটরি ভবন। সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকা হওয়ায় ভবনগুলো নাম দেওয়া হয় সুন্দরী, গেওয়া, বাইন, কাঁকড়া, গরান, ধুন্দল ইত্যাদি। চরম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০২৩ সালে এসব ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। গত বৃস্পতিবার সরেজমিনে ভবনগুলো ঘুরে দেখা যায়, প্রত্যেক ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরেছে।সেই সঙ্গে ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তরা খসে পড়ে মরিচা ধরা রড বেরিয়ে গেছে। মেঝে ও সিঁড়ির একই অবস্থা। জানালা-দরজাগুলো অধিকাংশ ভাঙাচোরা। ভবনগুলোর বাসিন্দারা জানান, থাকার জায়গার অভাবে অনেকেই এসব ভবনে ঝুঁকি নিয়ে বাস করছেন। অনেক কর্মকর্তাকে পরিবার নিয়ে উপজেলা পরিষদ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে বাসা ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে।আবাসন সংকটের কারণে কর্মকর্তারা বদলি হওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার নতুন যারা আসছেন, তাদের অনেকেই একই সমস্যার কথা চিন্তা করে যোগদানের আগেই বদলির তদবিরে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।বাসিন্দারা আরো জানান, বৃষ্টি হলে সব ভবনের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে বলে সেখানকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন। অনেকেই ছাদ দিয়ে পানি পড়া ঠেকাতে পলিথিন টানিয়েছেন। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দুটি ভবন সম্পূর্ণ খালি থাকায় সেখানে আগাছা-পরগাছা জন্মেছে। অন্য চারটিতে দুই-একজন করে থাকছেন।ভবনে বসবাসরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী জানান, ভবনটির বারান্দাসহ বিভিন্ন কক্ষের ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভবনটিতে বসবাস করতে হচ্ছে। শৌচাগারগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী। কর্মচারীরা স্বল্প বেতনে দূর-দুরান্ত থেকে এসে এখানে চাকরি করেন। ডরমিটরি ভবনটি অনেক পুরনো। এমন অবস্থায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকেই উঠেছেন ভাড়া বাড়িতে। আবাসন সংকটের কারণে এখানে যোগদানের পরপরই বদলির চেষ্টায় ব্যস্ত থাকতে হয়।

ওই কর্মচারী আরো জানান, বর্তমানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মকর্তা নেই কেবল ভালো আবাসন ব্যবস্থা না থাকার কারণে। দ্রুত আবাসনের ব্যবস্থা করলে তারা এখানে থাকতে পারবেন বলে জানান তিনি।

সরকারি ভবন রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত গণপূর্ত বিভাগ বলছে, প্রায় ৫০ বছর আগের প্রযুক্তিতে নির্মিত ভবনগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা যাচ্ছে না। তবে, আবাসন সংকট নিরসনে সংস্কারসহ নতুন বহুতল ভবন নির্মাণে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ জাবের বলেন, সরকারি কোয়ার্টারে থাকার মতো অবস্থা না থাকায় প্রথমে কয়েকদিন একটি আবাসিক হোটেলে কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতে হয়েছে। এখন অফিস থেকে দুই কিলোমিটার দূরে বাসা ভাড়া নিয়ে আছি। এতে অনেক সমস্যা পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আবাসন সংকটের কারণে পার্শ্ববর্তী উপজেলায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হচ্ছে।’ সেখান থেকে কষ্ট করে হলেও নিয়মিত অফিস করতে হয় তাকে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার মণ্ডল বলেন, ‘বাইরে বাসাভাড়া তুলনামূলক বেশি। তাছাড়া অফিস থেকে অনেক দূরে হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে কোয়ার্টারে থাকতে হচ্ছে। সেখানে বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এ কারণে পরিবার আনতে সাহস পাচ্ছি না।’

কয়রা উপজেলা প্রকৌশলী আবুল ফজেল বলেন, ‘কর্মকর্তাদের থাকার জন্য প্রত্যেক ভবনই বর্তমানে পরিত্যক্ত। তার পরও নিরূপায় হয়েই সেখানে থাকতে হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে।’

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, ‘ভবনগুলোর অবস্থা এতটা খারাপ যে সেখানে থাকার মতো পরিবেশ নেই। ভবনগুলোকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিষয়টি অনেক আগেই রেজুলেশনের মাধ্যমে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102