নির্বাচন কমিশন কর্তৃক শিগগিরই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া মাত্রই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে চলছে কাউন্সিলর প্রার্থী আলোচনা। দলীয় হাইকমাণ্ডের নজরে আসতে এরই মধ্যে কর্মী-সমর্থকরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে কাউন্সিলর হিসেবে দেখার প্রত্যাশা জানিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণাও চালাচ্ছেন। ব্যতিক্রম নয় ঢাকা-১৮ আসনের অন্তর্গত দক্ষিণখানের ৪৭, ৪৮, ৪৯ ও ৫০নং ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরাও। ইসির ঘোষণার পর ডিএনসিসির এই চার ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীতা নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব ওয়ার্ডে সবমিলিয়ে আলোচনায় রয়েছে ১ ডজনেরও বেশি বিএনপি নেতার নাম। দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ, কোটবাড়ি, মৌশাইর, চালাবন, সোনার খোলা, হলান, আনল, বরুয়া, জামুন, কাওলা, আশকোনা, গাওয়াইর, মোল্লারটেক, ইরশাল, আজমপুর এলাকা নিয়ে গঠিত ডিএনসিসির এসব ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হতে ইচ্ছুক এবং আলোচনায় থাকা বিএনপি প্রার্থীদের বিষয়ে জানার চেষ্টা করেছে উত্তরা নিউজ।
৪৭নং ওয়ার্ডে রতন-হেলাল-রাসেল
ফায়দাবাদ, কোটবাড়ি, মৌশাইর ও চালাবন নিয়ে গঠিত ডিএনসিসি ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে আলোচনায় বিএনপির দুই হেভিওয়েট প্রার্থী হেলাল তালুকদার ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য মোতালেব হোসেন রতন। ২০২০ সালের নির্বাচনে এই ওয়ার্ড থেকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পান মোতালেব হোসেন রতন। তিনি ২০০৩ সালেও তাৎকালীন দক্ষিণখান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে মেম্বার নির্বাচিত হন।
ওয়ার্ডে আলোচনায় রয়েছেন দক্ষিণখান থানা বিএনপির আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী আহ্বায়ক হেলাল তালুকদারের নাম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে শক্ত অবস্থান নেয়ায় হেলাল তালুকদারকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনাও শোনা যাচ্ছে।
এর বাইরেও এই ওয়ার্ড থেকে নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী ইচ্ছুক হিসেবে রয়েছে দক্ষিণখান থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি শেখ আব্দুল্লাহ রাসেলের নাম। তরুণ এই প্রার্থীকে নিয়ে এলাকার তরুণদের মাঝে আগ্রহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
৪৮নং ওয়ার্ডে আলোচিত দুই প্রার্থী
ডিএনসিসি ৪৮নং ওয়ার্ডে (দক্ষিণখান-হলান) কাউন্সিলর প্রার্থী আলোচনায় রয়েছে বিএনপির তিন মুখ। এসব প্রার্থীরা হলেন- ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাজী আকবর আলী, দক্ষিণখান থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন জমিদার ও দক্ষিণখান থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন।
এই তিন প্রার্থীর মাঝে হাজী আকবর আলী গেলবারের এই ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত কাউন্সিলর। এবারও এই প্রার্থীর পক্ষে তার অনুসারীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। তবে ওয়ার্ডে তরুণদের মাঝে আলোচনায় রয়েছে দক্ষিণখান থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন জমিদার। দক্ষিণখান, হলান, আনল, বরুয়া ও জামুন এলাকা নিয়ে গঠিত ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের তরুণ এই প্রার্থী বেশ সুপরিচিত। ওয়ার্ডে আলোচনায় রয়েছে দক্ষিণখান থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ দেলোয়ার হোসেনের নাম। সম্প্রতি সময়ে তাকেও এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিতে দেখা গেছে।
৪৯নং ওয়ার্ডে আলোচনায় আছেন যারা
দক্ষিণখানের কাওলা, আশকোনা ও গাওয়াইর এলাকা নিয়ে গঠিত ডিএনসিসি ৪৯নং ওয়ার্ড। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনের পার্শ্ববর্তী এলাকায় হওয়ায় ওয়ার্ডটির গুরুত্বও বেশি। আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন সরকার টিপু, মো. মনির হোসেন ভূঁইয়া ও দক্ষিণখান থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আলম মিঠুর নাম।
আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে আলাউদ্দিন সরকার টিপু বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও অপর প্রার্থী মনির হোসেন ভূঁইয়া বিমানবন্দর থানা বিএনপির আহ্বায়ক। দুজনই এলাকায় সুপরিচিত। এলাকার তরুণ নেতাকর্মীদের মাঝে যুবদল নেতা মাসুদ আলম মিঠুও জনপ্রিয়তা রয়েছে।
তবে, ত্যাগ ও মূল্যায়নের দিক দিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী আলোচনায় অপর দুজনই সমানভাবে এগিয়ে বলে জানা গেছে।
ডিএনসিসি ৫০নং ওয়ার্ডে আলোচনায় তিন বিএনপি নেতা
ডিএনসিসি ৫০নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর আলোচনায় শুরু থেকেই আলোচনায় স্থানীয় বিএনপির দুই নেতা দেওয়ান নাজিম উদ্দিন ও উত্তরা পূর্ব থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সালাম সরকার। দুজনের মধ্যে দেওয়ান নাজিম উদ্দিন সর্বশেষ ২০২০ সালে এই ওয়ার্ড থেকে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়ে ঘুড়ি প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় ওয়ার্ডজুড়ে তার পরিচিত ব্যাপক। জুলাই আন্দোলনে উত্তরার রাজপথে এই প্রার্থীকে সক্রিয় অংশগ্রহণও করতে দেখা গেছে।
অপরদিকে, আলোচনায় থাকায় আব্দুস সালাম সরকার উত্তরার ব্যবসায়ী মহলেও সুপরিচিত নেতা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের (বর্তমানে সংসদ সদস্য) পক্ষে প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা রাখায় আলোচনায় রয়েছেন তিনিও। এরই মধ্যে আব্দুস সালাম সরকারের পক্ষে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণাও চালাতেও দেখা গেছে তার অনুসারীদের।
দক্ষিণখান থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলামও। সম্প্রতি, এই বিএনপি নেতাকেও এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে।
উত্তরা নিউজ/জি.টি