পৃথিবীর প্রধান কয়েকটি ধর্মের উপবাস বা রোজার ধারণা ও নিয়মাবলি তুলে ধরা হলো—
১. ইসলাম ধর্মে রোজা : রোজা ইসলামের ফরজ বিধান এবং পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম।সুস্থ, সাবালক ও মুসাফির নয়, এমন ব্যক্তিদের জন্য প্রতিবছর রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ। মুসলমানরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার, স্ত্রী সম্ভোগ ও পাপাচার থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে রোজা সম্পন্ন করে। রমজান মাসের রোজা ছাড়াও ইসলাম ধর্মে আরো বিভিন্ন প্রকার রোজা আছে। যেমন—আশুরার রোজা, প্রত্যেক চান্দ্র মাসের মধ্যবর্তী তিন দিনের রোজা, কাজা রোজা, কাফফারার রোজা ইত্যাদি।জেনে-বুঝে ফরজ রোজা অস্বীকার করলে ব্যক্তির ঈমান চলে যাবে।
৪. হিন্দু ধর্মে উপবাস : সনাতন ধর্মে উপবাসকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। সনাতন ধর্ম মতে, উপবাস হলো আত্মিক পরিশুদ্ধি লাভের জন্য শারীরিক চাহিদাকে উপেক্ষা করা। উপবাস দেহ ও আত্মার মধ্যে সুরেলা সম্পর্ক সৃষ্টি করে, যা পরমাত্মার সঙ্গে একীভূত হতে সাহায্য করে। হিন্দু সনাতনীরা প্রত্যেক চান্দ্র মাসের একাদশী তিথিতে উপবাস পালন করে থাকে। প্রত্যেক চান্দ্র মাসে শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষে দুইবার একাদশী তিথি আসে। এই হিসাবে তারা বছরে ২৪ দিন একাদশী তিথির উপবাস পালন করে।হিন্দুরা মহাশিবরাত্রি উপবাস ও নবরাত্রি উপবাস নামে আরো দুটি উপবাস পালন করে থাকে। এ ছাড়া প্রত্যেক সপ্তাহে চার দিন চার প্রধান দেবতার নামে উপবাসের রীতি আছে। হিন্দু ধর্ম মতে, উপবাস তিন ধরনের : ক. নির্জলা উপবাস, যাতে খাবার-পানীয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, খ. ফলাহার উপবাস, যাতে ফল খাওয়ার অবকাশ থাকে, গ. একভুক্ত উপবাস, যাতে দিনে একবার খাওয়া হয়, ঘ. আংশিক উপবাস, যাতে নির্ধারিত প্রকারের খাবার বর্জন করা হয়।
৫. বৌদ্ধ ধর্মে উপবাস : বৌদ্ধ ধর্মে ইসলাম, ইহুদি বা হিন্দু ধর্মের মতো বিধিবদ্ধ উপবাসের নিয়ম নেই। তবে সাধারণ অনুসারীরা উপস্থার দিনগুলোতে আংশিক উপবাস পালন করে। উপস্থা হলো চান্দ্র মাসের নির্ধারিত কয়েকটি তিথি। এই সময়ে বৌদ্ধরা দুপুরের পর থেকে পরবর্তী সকাল পর্যন্ত ভারী ও বিলাসী খাবার পরিহার করে এবং ধর্মীয় আলোচনা ও প্রার্থনায় সময় কাটায়। বৌদ্ধ ধর্মযাজকরা সারা বছরই দুপুরের পর ভারী ও বিলাসী খাবার পরিহার করে।
৬. শিখ ধর্মে উপবাস : শিখ ধর্মে উপবাস কোনো বাধ্যতামূলক বিধান নয়, বরং এই ধর্মে উপবাসকে নিরুৎসাহ করা হয়। শিখ ধর্মে উপবাসের পরিবর্তে খাবার গ্রহণে সংযম ও পরিমিত খাবার গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবু শিখ ধর্মে উপবাসের কিছু ধারণা পাওয়া যায়। যেমন—গুরুপূর্বের দিনে, শিখ ধর্মগুরুদের জন্মদিনে এবং পরিবারের সদস্য মারা যাওয়ার পর শোকের দিনগুলোতে। শিখ ধর্মে উপবাসের ধারণাকে আংশিক উপবাসই বলা যায়। যেখানে নির্ধারিত ধরনের খাবার পরিহার করা হয়।ওপরের বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হয়, পৃথিবীর প্রায় সব প্রধান ধর্ম আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভের মাধ্যম হিসেবে উপবাসকে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে।তথ্যঋণ : ইসলাম অনলাইন ডটনেট মিডিয়াম ডটকম ও আল ইসলাম ডটঅর্গ