সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন

রমজানে মাগফিরাতের দশকে ফিরে আসার আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
শুরু হলো পবিত্র মাহে রমজানের মাগফিরাতের ১০ দিন। মুমিনের উচিত তাওবা, ইস্তিগফার, অতীতের ভুল স্বীকার এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করার মাধ্যমে রমজানের মহিমান্বিত এই সময়ের মর্যাদা রক্ষা করা। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি যাদের প্রতি অন্যায় করেছি তাদের কাছেও ক্ষমা চাওয়ার নৈতিক সাহস অর্জন করা। এই সক্রিয় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই পাপের দাগ ধীরে ধীরে মুছে যেতে থাকে।যখন হৃদয় রহমতে নরম হয় এবং তাওবার মাধ্যমে পাপ ধুয়ে যায়, তখন মানুষ নাজাতের দিকে অগ্রসর হতে পারে। কারণ মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের নাজাত দেওয়ার আগে পাপ থেকে পবিত্র করেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করো, খাঁটি তাওবা; আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদের এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন, যার পাদদেশে নহরগুলো প্রবাহিত, নবী ও তাঁর সঙ্গে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সেদিন আল্লাহ লাঞ্ছিত করবেন না। তাদের আলো তাদের সামনে ও ডানে ধাবিত হবে।তারা বলবে, হে আমাদের রব, আমাদের জন্য আমাদের আলো পূর্ণ করে দিন এবং আমাদের ক্ষমা করুন; নিশ্চয়ই আপনি সব বিষয়ে সর্বক্ষমতাবান।’ (সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৮)উল্লিখিত আয়াতে বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ আগে তাঁর বান্দাদের পাপ থেকে মুক্ত করবেন, তারপর জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তাই মুমিনের উচিত নাজাতের দশক আসার আগেই বেশি বেশি তাওবা-ইস্তিগফারে লিপ্ত থাকা। তাওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে বান্দা তার পাপ থেকে পবিত্র হতে পারে, যা প্রত্যেক মুমিনের প্রকৃত সফলতা।পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তাওবা করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তারা সফল হতে পারে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩১)মাগফিরাত লাভের জন্য এ সময় কিছু বাস্তব অনুশীলন জরুরি। নিয়মিত ইস্তিগফার, গভীর মনোযোগে নামাজ, কোরআনের তিলাওয়াত ও ভাবনা, দান-সদকা এবং জিহ্বা ও আচরণের সংযম হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে, বিশেষ করে রাতের নির্জনতায় নিজের জীবনকে পর্যালোচনা করা মানুষের ভেতরে সত্যিকারের অনুতাপ সৃষ্টি করে। অনুতাপই মাগফিরাতের দরজা খুলে দেয়।যখন হৃদয় রহমতে নরম হয় এবং তাওবার মাধ্যমে পাপ ধুয়ে যায়, তখন মানুষ নাজাতের দিকে অগ্রসর হতে পারে। রমজানের শেষ ১০ দিনের লক্ষ্যই হলো সেই মুক্তির নিশ্চয়তা অর্জন করা। কিন্তু এই মুক্তির ভিত্তি তৈরি হয় প্রথম দুই ধাপের আন্তরিকতা ও প্রচেষ্টার ওপর।আজকের সমাজে আমরা প্রায়ই ভুলকে স্বাভাবিক করে ফেলি, কিন্তু রমজান আমাদের শেখায় ভুলকে স্বীকার করা দুর্বলতা নয়, বরং নৈতিক শক্তি। যে ব্যক্তি নিজের ভেতরের অন্ধকারের মুখোমুখি দাঁড়াতে পারে, সে-ই প্রকৃত পরিবর্তনের পথে হাঁটে।মহান আল্লাহ সবাইকে পাপের অন্ধকার থেকে মুক্ত হয়ে হেদায়েতের আলোর পথে ফিরে আসার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102