রমজানে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার গুরুত্ব
অনলাইন ডেস্ক
-
আপডেট টাইম:
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
আল্লাহর অবারিত দয়া, মুক্তি ও ক্ষমার বার্তা নিয়ে আগমন করে মাহে রমজান। রমজানে বান্দা যেমন তার ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ লাভ করে, তেমনি তাঁর কাছে অনুনয় বিনয়ের মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমাও লাভ করে। রমজান মাসে বান্দার জন্য আল্লাহর ক্ষমা লাভ করা জরুরি। কেননা আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) মিম্বারে উঠলেন এবং বলেন—আমিন, আমিন, আমিন।বলা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি মিম্বারে উঠছিলেন এবং বলছিলেন, আমিন, আমিন, আমিন। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই জিবরাইল আমার কাছে এসেছিল। সে বলল, যে রমজান পেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না, সে জাহান্নামে যাবে এবং আল্লাহ তাকে দূরে সরিয়ে দেবেন—বলুন আমিন। আমি বললাম আমিন; যে তার মা-বাবা উভয়কে পেল অথবা তাদের একজনকে পেল অথচ তাদের মাধ্যমে সে পুণ্যের অধিকারী হতে পারল না এবং সে মারা গেল, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং আল্লাহ তাকে দূরে সরিয়ে দেবেন—বলুন আমিন।আমি বললাম আমিন; যার কাছে আপনার নাম উচ্চারিত হলো অথচ সে আপনার প্রতি দরুদ পাঠ করল না এবং মারা গেল, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং আল্লাহ তাকে দূরে সরিয়ে দেবেন—বলুন আমিন। আমি বললাম আমিন। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ১৮৮)মুমিনের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার গুরুত্ব অপরিসীম। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা যখন একটি গুনাহ করে তখন তার অন্তরের মধ্যে একটি কালো চিহ্ন পড়ে।অতঃপর যখন সে গুনাহর কাজ পরিহার করে, ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তাওবা করে তার অন্তর তখন পরিষ্কার ও দাগমুক্ত হয়ে যায়। সে আবার পাপ করলে তার অন্তরে দাগ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তার পুরো অন্তর এভাবে কালো দাগে ঢেকে যায়।’(সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৩৪)আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা বান্দাকে দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ এমন নন যে তুমি তাদের মধ্যে থাকবে অথচ তিনি তাদের শাস্তি দেবেন। আর আল্লাহ এমনও নন যে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে অথচ তিনি তাদের শাস্তি দেবেন।(সুরা : আনফাল, আয়াত : ৩৩)পবিত্র রমজান মাস পাপ মুক্তির মোক্ষম সময়। কেননা রমজানের বিশেষ বিশেষ মুহূর্তে আল্লাহ বান্দার দোয়া কবুল করেন এবং পাপ মার্জনা করেন। যেমন ইফতারের আগ মুহূর্ত। এই সময়গুলোতে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি প্রার্থনা করা এবং অতীত পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার আবশ্যক। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না—ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোজাদার যতক্ষণ না সে ইফতার করে এবং অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৫২)স্বয়ং রোজাও পাপ মার্জনার মাধ্যম। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজান মাসের রোজা পালন করবে আল্লাহ তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন।’(সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯০১)যদি রমজানে পাপ পরিহার এবং অতীত পাপের জন্য আল্লাহর কাছে তাওবা করা হয়, তবে রোজা মুমিনের জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রোজা ঢালস্বরূপ, যতক্ষণ তা ত্রুটিযুক্ত করা হয়।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২২৩৩)এই হাদিসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসরা বলেন, ‘রোজাকে ঢালস্বরূপ বলার কারণ হলো তা মানুষকে পৃথিবীতে পাপাচার থেকে রক্ষা করে এবং পরকালে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে।’ (আরবাউনান-নাবাবিয়্যা বি-তালিকি ইবনে উসাইমিন, পৃষ্ঠা-৫৫)নবী-রাসুল ও আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহপ্রাপ্ত বান্দা ছাড়া বেশির ভাগ মানুষই ভুলত্রুটি ও পাপের শিকার। তবে পাপ করার পর বান্দা যখন আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হয়ে ফিরে যায় এবং তাওবা করে, তখন সে আল্লাহর প্রিয় বান্দায় পরিণত হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীকে ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন পবিত্রতা অর্জনকারীকে।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২২২)মহানবী (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ রাতে তাঁর (অনুগ্রহের) হাত প্রসারিত করেন দিনের পাপাচারীদের ক্ষমা করে দিতে এবং দিনে তাঁর হাত প্রসারিত করেন রাতের পাপাচারীদের ক্ষমা করে দিতে; (এই ধারা অব্যাহত থাকবে) সূর্য পশ্চিম দিক দিয়ে ওঠা তথা কিয়ামত পর্যন্ত।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৭১৬৫)রমজান পেয়েও গুনাহ মাফ করাতে না পারা দুর্ভাগ্যজনক। কেননা মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তির নাক ধুলায় ধূসরিত হোক যে রমজান পেল এবং তার গুনাহ মাফ করার আগেই তা বিদায় নিল।’(সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৪৫)মহান আল্লাহ রমজান মাসে আমাদের পাপমুক্ত হওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।
নিউজটি শেয়ার করুন..
-
-
-
- Print
- উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..