কষ্টে ধৈর্য ধারণ করা:
নারীরা যেহেতু রোজা রেখে গৃহস্থালির কষ্টসাধ্য কাজগুলো করে থাকেন, তাই অনেক সময় তাদের মাঝে বিরক্তি চলে আসে। ফলে তারা অধৈর্য হয়ে যেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে একজন মুমিন নারীর করণীয় হচ্ছে ধৈর্য ধারণ করা। কারণ ধৈর্যশীলতা মুমিন নর-নারীর কল্যাণকর একটি গুণ। পবিত্র কোরআনে ধৈর্যশীলদের পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘বলো! হে মুমিন বান্দা, যারা ঈমান এনেছ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো।যারা এই দুনিয়ায় ভালো কাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ। আর আল্লাহর জমিন প্রশস্ত, শুধু ধৈর্যশীলদেরই তাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে দেয়া হবে কোনো হিসাব ছাড়াই।’ (সুরা জুমার, আয়াত : ১০)
রমজানের রোজার মতোই দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে আদায় করা প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক নর-নারীর ওপর ফরজ। তাই ঘরের শত ব্যস্ততার মধ্যেও যেনো নারীদের ফরজ নামাজ ছুটে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যথাসময়ে নামাজ আদায়ে সচেষ্ট হতে হবে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করলাম, আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল কোনটি? তিনি বলেন, ‘সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৫৫)আর যারা অলসতায় নামজ আদায় দেরি করে বা ছেড়ে দেয়, তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাজ আদায়কারীর, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন।’ (সুরা মাউন, আয়াত : ৪-৫)
সুন্নত নামাজের প্রতি গুরুত্ব দেয়া:
নারীদের অধিক নফল নামাজের সুযোগ যদি না থাকে, তবে অবশ্যই ফরজের আগে ও পরের সুন্নতগুলো আদায়ের ব্যাপারে যত্নশীল হতে হবে। এক বর্ণনায় আল্লাহর রাসুল (সা.) ফরজ নামাজের আগে ও পরের সুন্নত নামাজের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘যে ব্যক্তি দিন-রাতে ১২ রাকাত নামাজ আদায় করবে তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করা হবে। (সেগুলো হচ্ছে) জোহরের নামাজের আগে চার রাকাত ও পরে দুই রাকাত, মাগরিবের নামাজের পরে দুই রাকাত, এশার নামাজের পরে দুই রাকাত এবং ফজরের নামাজের আগে দুই রাকাত।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৪১৫)
কোরআন তিলাওয়াত ও তাসবিহ-তাহলিল আদায়:
রমজান কোরআন নাজিলের মাস। পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার কারণেই এই মাস এত মহিমান্বিত। তাই অবসর কিংবা ব্যস্ততার সময় আমাদের কোরআন তিলাওয়াত ও বিভিন্ন তাসবিহ-তাহলিল আদায়ের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। নারীরা রান্নাবান্নার কাজের সময়েও সহজ তাসবিহগুলো আদায় করতে পারে। আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন রোজা এবং কোরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমি ওকে পানাহার ও যৌনকর্ম থেকে বিরত রেখেছিলাম। সুতরাং ওর ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করো। আর কোরআন বলবে, আমি ওকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছিলাম। সুতরাং ওর ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করো।’ নবী (সা.) বলেন, ‘অতএব ওদের উভয়ের সুপারিশ গৃহীত হবে।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৬৬২৬)
আরেক বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সর্বাবস্থায়ই আল্লাহর যিকির করতেন। (মুসলিম, হাদিস : ৭১২)