(সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯১)
যারা আল্লাহর জিকিরে আত্মনিয়োগ করবে তাদের জন্য রয়েছে বহুবিধ পুরস্কার। বান্দার জন্য জিকিরের সবচেয়ে বড় পুরস্কার হলো আল্লাহর স্মরণ লাভ করে। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে স্মরণ কোরো আমিও তোমাদের স্মরণ করব।তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও, অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’(সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫২)
(তাফসিরে ইবনে কাসির)
রমজান মাসে জিকিরের মতো দোয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। কোরআনের একাধিক আয়াতে দোয়ার প্রতি বান্দাদের উৎসাহিত করে হয়েছে। ‘তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো আমি সাড়া দেব।’
(সুরা : মুমিন, আয়াত : ৬০)
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আমার বান্দারা যখন আমার সম্পর্কে তোমাকে প্রশ্ন করে, আমি তো নিকটেই। আহবানকারী যখন আমাকে আহবান করে আমি তার আহ্বানে সাড়া দিই। সুতরাং তারাও আমার ডাকে সাড়া দিক এবং আমার ওপর ঈমান আনুক; যাতে তারা ঠিক পথে চলতে পারে।’
(সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৬)
পূর্বসূরি আলেমরা রমজান মাসকে দোয়ার মাস বলেছেন। কেননা রমজান মাসে দোয়া কবুলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না : ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোজাদার যখন সে ইফতার করে এবং অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া।’
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৫২)
রমজান মাসে দোয়া কবুলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সময় সাহরির সময়। এই সময় আল্লাহ দোয়া কবুল করেন।
নবীজি (সা.) বলেন, ‘রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে আমাদের প্রতিপালক পৃথিবীর আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, কে আমাকে ডাকবে আমি তার ডাকে সাড়া দেব, কে আমার কাছে চাইবে আমি তাকে দান করব, কে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আমি তাকে ক্ষমা করব।’
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১৪৫)
রমজান মাসে মুমিন সব মাসনুন দোয়া গুরুত্বের সঙ্গে পাঠ করবে; বিশেষত ইফতার ও সাহরির সময় যে দোয়াগুলো পাঠ করার কথা এসেছে।
যারা মাহে রমজানেও আল্লাহর জিকির ও দোয়া থেকে বিমুখ তারা মৃত ব্যক্তির মতো। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যারা আল্লাহর জিকির করে এবং যারা আল্লাহর জিকির করে না তাদের দৃষ্টান্ত জীবিত ও মৃত ব্যক্তির মতো।’
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪০৭)
কোরআনে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আমার স্মরণে বিমুখ থাকবে, অবশ্যই তার জীবনযাপন হবে সংকুচিত। আর তাকে কিয়ামতের দিন উঠাব অন্ধ করে।’
(সুরা : তাহা, আয়াত : ১২৪)
আল্লাহ সবাইকে দোয়া ও জিকিরের সঙ্গে রমজান অতিবাহিত করার তাওফিক দিন। আমিন।