শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
দলীয় নেতাদের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে কাজ করতে হবে : ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল যথাসময়ে স্থানীয় নির্বাচন হবে : মির্জা ফখরুল ফিলিস্তিন ভূখণ্ড দখলে ইসরায়েলি আইনের নিন্দা বাংলাদেশের ইমাম নিয়োগ অনিয়মের সত্যতা মিলেছে তদন্ত প্রতিবেদনে, ধামাচাপা দিতে ফের কমিটি কক্সবাজারের সাবেক এমপি বদির জামিন রাজধানীর শান্তিনগরে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার মেঘনা নদীতে মার্চ-এপ্রিল সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার ঢাকায় আসতে চান পা‌কিস্তা‌নের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শ‌রিফ পাকিস্তানের ৫০ জন সেনাকে হত্যার দাবি আফগানিস্তানের আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আখুন্দজাদা নিহত

তুরস্কে মিনারে মিনারে আলোর বাণী

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
তুরস্কের একটি জনপ্রিয় রমজান সংস্কৃতি হলো মাহইয়া আলোকসজ্জা। মাহইয়া হলো রমজান মাসকে স্বাগত জানিয়ে দুই মিনারের মধ্যে বাতি ঝোলানো। রমজান ছাড়াও দুই ঈদ ও ইসলামের মহিমান্বিত দিবসগুলোতে মাহইয়া আলোকসজ্জা করা হয়। তুরস্ক, বলকানসহ উসমানীয়দের দ্বারা শাসিত অঞ্চলগুলোতে মাহইয়ার প্রচলন দেখা যায়।মাহইয়া শব্দটি ফারসি মাহ (মাস) থেকে এসেছে। যার অর্থ মাসিক। রমজানের মাসব্যাপী পবিত্রতার প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে মাহইয়া বলা হয়। আর শব্দটি আরবি মাহইয়া থেকে গ্রহণ করা হলে তার অর্থ হয় পুনর্জীবন বা পুনরায় স্মরণ।কেননা পবিত্র এসব দিন, রাত ও মাসে মানুষের ভেতর ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত হয়। এখানে উভয় ব্যাখ্যাই প্রাসঙ্গিক।ইসলামের প্রাথমিক যুগে পবিত্র রাতগুলোতে মসজিদের মিনারে বাতি প্রজ্বলনের রীতি ছিল। বিশেষত আব্বাসীয় আমলে শহরের প্রধান প্রধান মসজিদের মিনারে শবেকদর, শবেবরাত, শবেমেরাজের মতো রাতগুলোতে আলো জ্বালানো হতো।কিন্তু দুই মিনারের মধ্যে বাতি জ্বালানোর প্রচলন উসমানীয়দের মাধ্যমেই শুরু হয়।এটা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না যে মাহইয়া আলোকসজ্জার সূচনা কখন শুরু হয়েছিল। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টীয় ষষ্ঠদশ শতকে মাহইয়ার প্রচলন ঘটে। জার্মান প্রাচ্যবিদ স্যালোমন শোইগার ১৫৭৮ সালে লেখা তাঁর ভ্রমণকাহিনিতে মাহইয়ার বর্ণনা দিয়েছেন। ফেব্রুয়ারি ১৫৮৮ সুলতান তৃতীয় মুরাদ প্রতিটি পবিত্র রাতে মাহইয়া আলোকসজ্জার নির্দেশ জারি করেন।সুলতান দ্বিতীয় সেলিম ও প্রথম আহমদের যুগের নথিপত্রেও মাহইয়ার বর্ণনা পাওয়া যায়।মাহইয়া রীতি তুর্কি মসজিদের কাঠামোকেও প্রভাবিত করেছিল। ১৭২৩ সালে সুলতান তৃতীয় আহমদ তাঁর প্রধানমন্ত্রী ইবরাহিম পাশাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেন ইয়ুপ মসজিদে আরেকটি মিনার তৈরি করা হয়। যেন তাতে মাহইয়া আলোকসজ্জা সম্পন্ন করা যায়। একইভাবে ইস্তাম্বুলের উসকুদার জেলায় অবস্থিত মেহমিরা সুলতান মসজিদেও দ্বিতীয় মিনার তৈরি করা হয় মাহইয়া আলোকসজ্জার জন্য।মাহইয়াকে তুর্কি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯২০ সালে উসমানীয় খেলাফতের পতনের পর তুরস্কের ধর্মবিদ্বেষী সরকার মাহইয়া আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ করে। তখন তুর্কি সাহিত্যিক ইয়াকুব কাদরি কারাসমানুগলু মাহইয়ার জন্য স্মৃতিকাতর হন। তিনি ইকদাম পত্রিকায় লেখেন, ‘আমরা রমজানের পবিত্র ও মিষ্টি স্মৃতিধারণ করে আছি। আমাদের কারো মনে পড়ে ইফতারের পুরনো টেবিলগুলো, কারো মাহইয়াগুলো, কারো বাইজিতের প্রদর্শনী, কারো সুগন্ধিযুক্ত রুটি, কারো গরম পিঠা; মোটকথা আমাদের সবার কিছু না কিছুর কথা মনে পড়ে যায়।’মাহইয়া শুধু তুর্কিদের মোহিত করে তা নয়, বরং তা পর্যটকদেরও মুগ্ধ করে। ১৮৫৪ সালের রমজান মাসে ফরাসি কবি থিওফিল গুতিয়ে ইস্তাম্বুল সফর করেন। তিনি লেখেন, ‘তেপেবাশি বিহারের দৃশ্য ছিল অপূর্ব। গোল্ডেন হর্নের অপর পাশে অবস্থিত কনস্টান্টিনোপল প্রাচ্যের কোনো সম্রাটের মুকুটের মতো জ্বলজ্বল করছিল। মসজিদের মিনারগুলো তেলের বাতির ব্রেসলেট দ্বারা সজ্জিত ছিল। এক মিনার থেকে অপর মিনার পর্যন্ত কোরআনের আয়াতগুলো জ্বলজ্বল করছিল। যেন তা পবিত্র গ্রন্থের পাতা থেকে আকাশে অগ্নিশিখার অক্ষরে প্রস্ফুটিত হয়েছে। সুলাইমানিয়ার মতো নতুন মসজিদ এবং সারাইবুর্নু ও ইয়ুপের মতো পুরনো মসজিদ মাহইয়ার আলোয় উদ্ভাসিত ছিল। উজ্জ্বল আলোর মিনারগুলো ইসলামের সঙ্গে তুর্কি জাতির গভীর সম্পর্কের সাক্ষ্য দিচ্ছিল।’রমজান মাসে মাহইয়া আলোকসজ্জায় সাধারণত ইসলামের শাশ্বত বাণীগুলো লেখা হয়। যেমন—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, স্বাগতম মাহে রমজান, স্বাগতম হে ১১ মাসের সুলতান (রমজান), দান করে সুখী হোন, মুসলমান ভাই ভাই, হে আল্লাহ! আমাদের ভালোবাসতে দিন এবং আমাদের ভালোবাসা হতে দিন ইত্যাদি। কখনো কখনো দেশাত্মবোধক বাক্যও লেখা হয় মাহইয়াতে। যেমন—স্বাধীনতা দীর্ঘজীবী হোক, মাতৃভূমির ভালোবাসা ঈমানের অংশ। কখনো কখনো ফুল, মিনার, নৌকার মতো চিত্রও অঙ্কিত হয় মাহইয়া আলোকসজ্জায়। এভাবে মাহইয়া তুর্কি জাতির ধর্মীয় অনুপ্রেরণা, দেশপ্রেম ও শিল্প চেতনার অনুঘটক হিসেবে চর্চিত হয়ে আসছে প্রায় পাঁচ বছর যাবৎ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102