বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
বিমানবন্দর থানার নতুন ওসি কামরুল ইসলাম তালুকদার “সংসদে কেনাকাটায় হরিলুট: তদন্তে স্পীকার কর্তৃক কমিটি গঠন” তৈরি পোশাক রপ্তানি দ্রুত ও সহজতর করতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস – Heading বাংলাদেশ ও কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতার অঙ্গীকার রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে মাধ্যমিকে ভর্তি আবেদন শুরু নতুন করে আদা-রসুনসহ ৬ পণ্যের মূল্য লাগামছাড়া স্বামী সংসদে যেতে না পারলেও যাচ্ছেন স্ত্রী গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি হামলায় ৭৮০ ফিলিস্তিনি নিহত নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের ইঙ্গিত দিলেন হাঙ্গেরির নতুন প্রধানমন্ত্রী

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে চীন-বাংলাদেশ অংশীদারত্ব ফোরাম প্রতিনিধিদলের বৈঠক

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে চীন-বাংলাদেশ অংশীদারত্ব ফোরামের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছেন। গত বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে আজ শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বৈঠকটির প্রতিনিধিদলে চীনের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বিনিয়োগকারী, বায়োমেডিক্যাল, অবকাঠামো, ডিজিটাল ও আইন খাতের প্রতিনিধি এবং শিল্পনেতারা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

বৈঠকে সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েস্ট চায়না স্কুল অব মেডিসিনের পরিচালক ও খ্যাতনামা বায়োমেডিকেল বিজ্ঞানী সিন-ইউয়ান ফু অধ্যাপক ইউনূসের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের সঙ্গে যৌথভাবে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৈঠকে ‘ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেকনোলজি’র পরিচালনা পর্ষদের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু জিলং ওং এবং ‘ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেক (সিঙ্গাপুর)’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউচিং ইয়াও বাংলাদেশে তাদের কাজের অভিজ্ঞতা ও আগ্রহের কথা জানান। অন্তত ২২টি দেশে টিকা রপ্তানি করা এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে পিসিভি ও এইচপিভি টিকা উৎপাদনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।

যুক্তরাজ্য ও ইন্দোনেশিয়ায়তেও তাদের স্থানীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।প্রতিনিধিদলে আরো ছিলেন সিঙ্গাপুর রোবটিকস সোসাইটির সহসভাপতি জিনসং ওয়াং, ফোর্ডাল ল ফার্মের ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ইউয়ান ফেং, বেইজিং উতং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লি রান, চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও প্রকল্প বিষয়ক সহসভাপতি গাও ঝিপেং, চায়না হুনান কনস্ট্রাকশন ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের বিনিয়োগ পরিচালক শু তিয়ানঝাও, চায়না সিসিসি ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সহ-সভাপতি হুয়া জিয়ে, পাওয়ার চায়না ওভারসিজ ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের বৈদেশিক বাজার বিষয়ক মহাব্যবস্থাপক চেন শুজিয়ান, ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মা শিয়াওইউয়ান এবং চীন-বাংলাদেশ অংশীদারত্ব ফোরামের মহাসচিব অ্যালেক্স ওয়াং জেকাই।

চীনা প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের মেধা ও সম্ভাবনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটালাইজেশন নিয়ে তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

বৈঠকে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মাইক্রোক্রেডিট আন্দোলনের সূত্র ধরে চীনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, চীনের প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে তিনি মানুষের জীবনে পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছেন। পরে সেই ধারণা অনুসরণ করে চীন নিজস্ব কর্মসূচি চালু করে।

গত বছরের মার্চে চীন সফরের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ওই সফরে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আমাকে জানিয়েছেন, আমার বই তিনি পড়েছেন এবং নীতিগুলো অনুসরণ করেছেন, যা আমার জন্য আনন্দের মুহূর্ত ছিল।

শিগগির নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেও দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকার ওপর জোর দেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন, তবে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কাজ চলমান থাকতে হবে।

স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতে সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে। অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, স্বাস্থ্য খাতই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসক ও রোগীর সংযোগ, চিকিৎসা ইতিহাসের ডিজিটাল সংরক্ষণ এবং সহজে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলাই লক্ষ্য। পাশাপাশি, ওষুধ খাতে সামাজিক ব্যবসার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।

অধ্যাপক ইউনূস জানান, অল্প খরচে উৎপাদিত ওষুধ উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়, এ অবস্থা বদলাতে মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া সামাজিক ব্যবসাভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চান তাঁরা।

কভিড-১৯ মহামারির সময় পেটেন্টমুক্ত টিকার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থানের কথাও স্মরণ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, মানুষ মারা যাচ্ছিল, অথচ কেউ কেউ লাভ করছিল, এটা লজ্জাজনক। এ সময় উত্তরাঞ্চলে ‘হেলথ সিটি’ গড়ার ভাবনার কথাও তুলে ধরেন অধ্যাপক ইউনূস।

তিনি বলেন, সেখানে ১ হাজার শয্যার আন্তর্জাতিক হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, গবেষণা কেন্দ্র, টিকা উৎপাদন ও ওষুধশিল্পসহ স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম এক জায়গায় গড়ে তোলা হবে। এতে প্রতিবেশী ভারত, নেপাল ও ভুটানের মানুষও উপকৃত হতে পারবেন।

বৈঠক শেষে অধ্যাপক ইউনূস ধারাবাহিক সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য চীনা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102