বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জিয়াউর রহমান দেশে পোশাক কারখানা স্থাপন করেছিলেন। এখন গাজীপুর হচ্ছে পোশাক শিল্পের রাজধানী। এ শিল্পকে আরও বাড়িয়ে নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া নারী শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টার চালু করা হবে। আগামী ১২ তারিখে বিএনপি নির্বাচিত হলে আমরা অনেকগুলো পরিকল্পনা নিয়েছি- এর একটি হচ্ছে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড। যা দিয়ে আমাদের দেশের নারী ও কৃষকরা অনেক উপকৃত হবে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষা একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া ফ্রি করে দিয়েছিলেন। এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষের জন্য যদি কোনো দল কাজ করে থাকে তাহলে সেটা বিএনপি করেছে একমাত্র।
আপনারা তাহাজ্জতের নামাজ পড়ে ভোট কেন্দ্রে যাবেন সেখানে জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। আপনাদের আগে অন্য কেউ যেন কেন্দ্রে ঢুকে পড়তে না পারে। ভোট শুরু হলে সবার আগে ভোট দেবেন। সবাইকে নিয়ে ধানের শীষে ভোট দেবেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান
মঙ্গলবার রাত ১২টায় গাজীপুর জেলা শহরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ি ময়দানে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে জনগণ ও দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা তাহাজ্জতের নামাজ পড়ে ভোট কেন্দ্রে যাবেন সেখানে জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। আপনাদের আগে অন্য কেউ যেন কেন্দ্রে ঢুকে পড়তে না পারে। ভোট শুরু হলে সবার আগে ভোট দেবেন। সবাইকে নিয়ে ধানের শীষে ভোট দেবেন।
এ সময় তিনি গাজীপুরের ৫টি সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত পাঁচজন প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন।
গাজীপুরে থাকার সময় তারেক রহমান তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে অতীত স্মৃতি মনে করে বলেন, আমি আমার বাবা-মা ও ছোট ভাইয়ের সঙ্গে গাজীপুরে এ ময়দানের পাশে বসবাস করতাম। এ মাঠে অনেক ঘুরে বেড়িয়েছি। খেলাধুলা করেছি। এখানে আমার অনেক স্মৃতি রয়েছে। যেহেতু এখানে শৈশবের অনেক স্মৃতি রয়েছে সেহেতু গাজীপুরের মানুষের প্রতি আমার অধিকার রয়েছে।
তিনি সবাইকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে তারেক রহমান ময়মনসিংহে জনসভা শেষ করে রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে গাজীপুরে ঐতিহাসিক রাজবাড়ি ময়দানে জনসভা মঞ্চে হাজির হন। তাকে বিএনপির গাজীপুর জেলা ও মহানগর শাখার নেতারা স্বাগত জানান।
তারেক রহমানের আগমন এবং জনসভা উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই রাজবাড়ি ময়দান নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। রাজবাড়ির বিশাল এ ময়দানে মানুষ স্থান না পেয়ে ময়দানের পূর্ব দিকে জোরপুকুর পার, পশ্চিমে শিববাড়ি মোড়, দক্ষিণে রথখোলা ও উত্তর দিকে আদালত এলাকা ও শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে জড়ো হন এবং তারেক রহমানের বক্তব্য শুনেন।
এ সময় শহরের বিভিন্ন উঁচু ভবনগুলোতে নারী-পুরুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সোমবার থেকে রাজবাড়ি ময়দানে সভা মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হলে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার, সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনিসহ স্থানীয় নেতারা তদারকি করেন। জনসভাকে সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য এবং মানুষের যেন ভোগান্তি না হয় সে জন্য দলের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন,
বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটু, গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হক মিলন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হুমায়ূন কবির খান, ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, মেয়র মজিবুর রহমান খান, ডা. মাজহারুল আলম, হাসান উদ্দিন সরকার, ওমর ফারুক শাফিন, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. মঞ্জুরুল করিম রনি, শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা সালাউদ্দিন সরকার, জমিয়াতে ওলামা ইসলাম বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি নাসির উদ্দিন, বিএনপি নেতা সাখাওয়াৎ হোসেন সবুজ, হান্নান মিয়া হান্নু, আব্দুস সালাম, মেহেদী হাসান এলিস, হুমায়ূন কবির মাস্টার, প্রভাষক বশির উদ্দিন, জাবেদ আহমেদ সুমন, আজিজুর রহমান পেরা, আবু তাহের মুসল্লি প্রমুখ।
তারেক রহমান গাজীপুরের কয়েকটি সমস্য সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সর্ব প্রথম গাজীপুরে রেলগেটে একটি উড়াল সড়ক তৈরি করা হবে যাতে এ এলাকার মানুষ যানজট থেকে মুক্তি লাভ করে। তুরাগ, চিলাই শালদহ নদী খনন করে পানি প্রবাহ বাড়ানো এবং এগুলো দূষণমুক্ত করা হবে।