৪৪ দিনে ৭২ ইটভাটায় অভিযান, বন্ধ ২১টি
অনলাইন ডেস্ক
-
আপডেট টাইম:
বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিবেশ আইন বাস্তবায়নে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি মাসের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত রংপুর বিভাগের সাত জেলায় পরিচালিত অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযানে ৭২টি ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব ইটভাটা মালিকের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা। একইসঙ্গে ২১টি অবৈধ ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ইটভাটা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং পরিবেশগত ক্ষতি রোধে সেসব ভাটার চিমনি ভেঙে ফেলা হয়েছে।পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে সবচেয়ে বেশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলায়। সেখানে ২৬টি ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এ ছাড়া দিনাজপুরে ১৪টি, পঞ্চগড়ে ছয়টি, নীলফামারীতে সাতটি, রংপুরে পাঁচটি, গাইবান্ধায় পাঁচটি এবং ঠাকুরগাঁও জেলায় দুইটি ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।সূত্র জানায়, অভিযানে চিহ্নিত অধিকাংশ ইটভাটা বৈধ অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল অথবা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন লঙ্ঘন করে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। অনেক ইটভাটায় এখনো আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির পরিবর্তে পুরনো ও নিষিদ্ধ চুল্লি ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা আশপাশের পরিবেশ, কৃষিজমি এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।অভিযান সূত্রের খবর অনুযায়, সেখানে আরো দেখা যায় কোথাও কোথাও উর্বর কৃষিজমি নষ্ট করে ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমির খুব কাছেই ইটভাটা চালু রাখা হয়েছে, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।এসব গুরুতর অনিয়মের কারণে সংশ্লিষ্ট ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।পরিবেশ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক নুর আলম বলেন, রংপুর বিভাগজুড়ে অবৈধ ও পরিবেশবিধ্বংসী ইটভাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত রংপুর, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলার বিভিন্ন ইটভাটায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের দায়ে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি ২১টি অবৈধ ও ক্ষতিকর ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের চিমনি ভেঙে ফেলা হয়েছে।নুর আলম আরো বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরো জোরদার করা হবে।অবৈধ ইটভাটার বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার ছাড়া কোনো ইটভাটাকে কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না।পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের এই ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযান উত্তরাঞ্চলের পরিবেশ রক্ষা, কৃষিজমি সংরক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি অবৈধ ইটভাটা মালিকদের জন্য একটি কঠোর বার্তা হিসেবেও কাজ করবে।
নিউজটি শেয়ার করুন..
-
-
-
- Print
- উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..