গারো পাহাড়ে বড়দিনের প্রস্তুতি, রয়েছে উৎকণ্ঠাও
অনলাইন ডেক্স রির্পোট
-
আপডেট টাইম:
বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন ঘিরে শেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা গারো পাহাড়েও প্রতিবছর চলে নানা আয়োজন। তবে এবারের দৃশ্যপট কিছুটা ব্যাতিক্রম। বিদ্যমান সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গারো জনপদে বিরাজ করছে থমথমে আবহ। অজানা আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় সময় পার করতে হচ্ছে গারো সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়দিন এলেই গারো জনগোষ্ঠীর ঘরে ঘরে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। বাড়ি-ঘর ফুল দিয়ে সাজানো, নতুন পোশাক কেনা, বাড়িতে পিঠা-পায়েসের গন্ধই বলে দেয় গারো পল্লীতে বড়দিন এসেছে। শিশু, কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের কাছেই বড়দিন নিয়ে আসে আনন্দের বার্তা। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবরও সবই আছে, তবে বড়দিনের আনন্দের পুরো উচ্ছাসে কিছুটা ভাটা পড়েছে।পাহাড়ি এলাকায় রাতে বা দিনে এখন আর সমাগম দেখা যায় না। উৎসব এলেও গ্রামে গ্রামে সুনসান নীরবতা। নেই পটকা ফুটানো, আতশবাজি। সবার মধ্যেই এক ধরনের ভয় কাজ করছে।এমন পরিস্থিতি পাহাড়ে আগে দেখা যায়নি বলে জানান তারা। কারণ বলতে গিয়ে স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দেশের কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রভাব পড়েছে গারো জনপদে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যায় জড়িতদের ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়েছে- এমন সন্দেহে ইতোমধ্যে নালিতাবাড়ী সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কয়েকজন গারো যুবককে। সীমান্ত এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিজিবির বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা , সড়কে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। গারো পাহাড়ের পুরো এলাকা রাখা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে।এ ব্যাপারে হাতিপাগার বিজিবির কম্পানি কমান্ডার মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সীমান্ত সুরক্ষিত রাখার জন্যই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে, বড়দিন উদযাপন ঘিরে বিশেষ দিক নির্দেশনা দিয়েছে শেরপুর জেলা পুলিশ। বড়দিন উপলক্ষে সারারাত ধর্মীয় সংকীর্তন করার সময় একা চলাচলের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন ও বহন না করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে। শেরপুর জেলা পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিষয়টি জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি বলেন, বড়দিন উদযাপন যাতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হয় সে জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ টিম থাকবে।বারোমারি মিশনের পাল পুরোহিত ফাদার তরুণ বনোয়ারী বলেন, দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরামর্শ অনুযায়ী ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখেই আমরা বড়দিন উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
নিউজটি শেয়ার করুন..
-
-
-
- Print
- উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..