বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৩১ অপরাহ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ে শীতকালীন শাক-সবজির বাম্পার ফলন, খুশি কৃষকরা

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫
ঠাকুরগাঁওয়ে আগাম শীতকালীন শাকসবজির বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে এখন হাসির ঝিলিক। জেলার চাহিদা পূরণ করে এসব সবজি রপ্তানি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, সবুজের সমারোহে ভরে গেছে গ্রামাঞ্চল। ক্ষেতের মাচায় ঝুলছে লাউ, কুমড়া, ঝিঙা, বরবটি, শিমসহ নানা জাতের সবজি।পাশাপাশি নতুন আলু, টমেটো, গাজর, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও বেগুনের ক্ষেতেও যেদিকে চোখ যায় শুধু সবুজের সমারোহ।কৃষকদের মতে, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মতো সার ও কীটনাশক সরবরাহ পাওয়ায় এবার আগাম শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম ভালো পাওয়ায় তারা লাভবান হচ্ছেন।সদর উপজেলার নারগুন বেগগুনবাড়ি এলাকার কৃষক আল আমিন জানান, আগাম সবজি বিক্রিতে লাভ বেশি হওয়ায় তিনি এক বিঘা জমিতে শিম ও বরবটি এবং দুই বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছেন।এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছেন। ক্ষেতের বাকি সবজি বিক্রি করে আরো দেড় লাখ টাকা আয় করার আশা করছেন তিনি।দানারহাট এলাকার কৃষক খায়রুল ইসলাম জানান, এবার  অতিবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় মুলা, ফুলকপি ও বাঁধাকপির চমৎকার ফলন হয়েছে।সময়মতো সেচ, নিড়ানি ও কীটনাশক ব্যবহার করলে আগাম সবজিতে ভালো লাভ পাওয়া যায়। খরচ বাদে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ টাকা আয় করেছেন। রুহিয়া ঢোলারহাট এলাকার কৃষক তপন রায় জানান, বর্তমান বাজারদরে সবজি বিক্রি করলে ভালো লাভ হবে। তিনি দেড় বিঘা জমিতে লাউ, দুই বিঘায় শিম ও বরবটি এবং দুই বিঘায় বেগুন চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা।অক্টোবরের শুরু থেকে প্রতি সপ্তাহে তিনি ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করছেন। ঢাকা ও সিলেট থেকে পাইকাররা ট্রাকে করে এসব সবজি কিনে নিয়ে যায়।সবজি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হওয়ায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, ফলে ক্রেতারাও পাচ্ছেন স্বস্তিমূল্য।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক আলমগীর কবির জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি ও আবহাওয়া সবজি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য জেলায় এসব সবজি সরবরাহ করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন কৃষকদের।তিনি বলেন, ‘এ বছর জেলার পাঁচ উপজেলায় ৭ হাজার ৯৯৫ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার উৎপাদন লক্ষ্য প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ৩২২ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে আগাম আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।’অক্টোবরের শেষের দিকে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সামান্য ক্ষতি হলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102