গেল ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড়ের পরিমাণ আগের অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যার ফলে সরকারের ওপর ঋণ পরিশোধের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি কমে যাওয়া এবং অর্থছাড়ের পরিমাণ হ্রাস পাওয়া এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ।
গত অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের পরিমাণ যথাক্রমে কমে সাড়ে ২২ শতাংশ এবং ১৬.৬৩ শতাংশ হলেও ঋণের কিস্তি পরিশোধের পরিমাণ ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের বিদেশী ঋণ পরিশোধ বেড়ে ৪০৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ২৬০ কোটি ডলার আসল ঋণ এবং ১৪৯ কোটি ডলার সুদ। এর আগের বছর এই পরিমাণ ছিল ৩৩৭ কোটি ডলার।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আইডিএ, জাপান, রাশিয়া, এআইআইবি ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ ছাড়ের পরিমাণও কমেছে। এদিকে, গত অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নও দুই দশকের সবচেয়ে কম মাত্রা— বরাদ্দের মাত্র ৬৭.৮৫ শতাংশই খরচ হয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানায়, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্দোলন, কারফিউ এবং প্রকল্প পরিচালকদের ও ঠিকাদারদের অনুপস্থিতির কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির হয়েছিল। অর্থনীতিবিদরা বলেন, অতীতের ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হওয়ায় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর সহায়তার অর্থছাড়ের নির্ভরশীলতায় বর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে সরকারের সংস্কার কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে সহায়তার পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে